ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়ক প্রশস্তকরণের নামে প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য, ইজারা প্রক্রিয়া, অনুমোদিত সীমানা, গাছের সংখ্যা ও কর্তন-পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে প্রায় ২৫ বছর বয়সী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাজারমূল্য গাছ ব্যবসায়ীদের হিসাবে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অথচ ইজারা মূল্যে অনেক গাছের দাম পড়েছে মাত্র ২-৩ হাজার টাকা বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যে দামে গাছ বিক্রি হয়েছে, শুধু গাছের ডালপালার মূল্যই তার চেয়ে বেশি হতে পারে।
সর্বশেষ তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত ৪৩৪টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ইজারা মূল্য ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসনাবাদ থেকে ছাতক পর্যন্ত আরও ৭০২টি গাছের একটি লটের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে অনুমোদিত সীমানার বাইরে গাছ কাটা, রাতে কর্তন ও পরিবহন এবং ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের আরও দুটি লটে ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চারটি লটের সর্বোচ্চ দরদাতা একই ব্যক্তি হওয়ায় ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
গাছের মূল্য, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়া তদন্তের দাবিতে ২৭ আগস্ট ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি।
তবে ইজারাদার সুমন আহমদ রাতে গাছ কর্তন, পরিবহন ও ইজারা সীমানার বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌসও শর্ত ভঙ্গ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গাছের প্রকৃত সংখ্যা, প্রজাতি, বয়স, বাজারমূল্য, ইজারা সীমানা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে সরকারি রাজস্বের প্রকৃত ক্ষতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।