সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত হত্যা মামলার রায় প্রদান করেছেন সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে বাদশা মিয়া ও খেলু মিয়া কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়াও বাকী ৯ জন কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়াও ১০ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলীকে হত্যা করা হয়েছিল।
রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন বিচারক। এরা হলেন ওয়েজখালীর গমীর বক্স’এর ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন- রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন- রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট. শেরেনুর আলী মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার রায়ের বিবরণ থেকে জানা যায় ওয়েজখালী এলাকার খোরশেদ আলম ও আলী হায়দার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী গ্রামের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিলের পর , দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।
এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুেেদ্ধ চলমান মামলা অবসান (অনধঃব) করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।