সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঈদ কেনাকাটার ভিড়ে এক অভিনব ডিজিটাল বিলিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভোক্তাদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছে সুনামগঞ্জের ‘মিরর’ নামক একটি পোশাকের দোকান। সুনামগঞ্জ শহরের প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটি তাদের মনগড়া পণ্য বিনিময় (এক্সচেঞ্জ) নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপণন আইন এবং ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু এই দোকান নয় আশপাশের আরও কয়েক টি দোকানে ও এমন কাজ কারবার চলছে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
স্থানীয় ক্রেতা দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ অভিযোগ করেন দোকানটিতে পণ্য ফেরত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ৭ দিনের মধ্যে পণ্য বিনিময়ের সুবিধা দেওয়া হলেও, দোকানের বিলিং সফটওয়্যারটি এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যা কেবল বাড়তি মূল্যের (আপওয়ার্ড) সমন্বয় করতে পারে। অর্থাৎ, কোনো ক্রেতা যদি আগের চেয়ে বেশি দামের পণ্য পরিবর্তন করে নেন, তবে সফটওয়্যারটি বাড়তি টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু পরিবর্তিত পণ্যের দাম যদি আগের কেনা পণ্যের চেয়ে কম হয়, তবে বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ওই সফটওয়্যারে নেই। ফলে ক্রেতারা তাদের বাকি টাকা উসুল করতে বাধ্য হয়ে আরও বাড়তি পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।এই কঠোর ডিজিটাল নীতিটি বর্তমানে সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান ‘টক অব দ্য টাউন’ বা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কাপড়ের চড়া দামের সাথে পণ্যের প্রকৃত মানের কোনো মিল নেই। এর ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে, দোকানের এই সংকীর্ণ শর্তগুলো ক্যাশ মেমোতে সম্পূর্ণ ইংরেজিতে লেখা থাকে, যা কেবল কেনাকাটা শেষ হওয়ার পরই ক্রেতার হাতে দেওয়া হয়। দোকানের ভেতরে বাংলায় কোনো সতর্কবার্তা বা প্লাকার্ড ঝোলানো না থাকায়, সাধারণ ক্রেতারা টাকা পরিশোধ করার আগে এই নীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকছেন।ক্ষুব্ধ ক্রেতারা এখন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার এবং এই ধরণের ডিজিটাল অনিয়মের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন।