• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

ঈদকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার সীমান্তে গরু চোরাচালানীরা সক্রিয়।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত May 16, 2026
ঈদকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার সীমান্তে গরু চোরাচালানীরা সক্রিয়।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলাধীন সীমান্ত ঘেষা তিনটি গরুর হাট রয়েছে। বোগলা বাজার নরসিংপুর ও বাংলাবাজার। এই তিনটি হাটে প্রচুর গরু বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে কিছু দেশী যা বৈধ আর কিছু গরু মহিষ অবৈধ। এ গুলো ভারত সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানীরা রাতের আঁধারে নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজ চলে আসছে। অবশ্য বিজিবি পুলিশ সহ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ছোট বড় গরুর চালান মাঝে মাঝে আটক করলেও থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে বিজিবি,পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করেই এসব অপকর্ম চলে। এর সাথে কতিপয় সাংবাদিক নামধারী ও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় এই বিষয় নিয়ে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে। গত ৯ মে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় ও আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার নির্দশনা

প্রদান করা হয়।

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা-র সীমান্তঘেঁষা বোগলাবাজার এলাকায় গরুর খামারের আড়ালে কথিত ‘রাত্রিযাপন কেন্দ্র’ গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রে খামার হিসেবে নিবন্ধিত এসব স্থাপনা বাস্তবে রাতভর গরু রাখার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

, বোগলাবাজারের বিভিন্ন স্থানে খামারের নামে নির্মিত স্থাপনাগুলো দিনে প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। গবাদিপশু লালন-পালনের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তবে রাত হলেই সেখানে ভারতীয় গরু এনে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গরুর একটি বড় অংশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আসে এবং পরদিন ভোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গরুর জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ‘রাত্রিযাপন ফি’ নেওয়া হচ্ছে। এতে খামারগুলো কার্যত একটি অস্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খামারগুলোর বাইরে কেবল দেখানোর জন্য ঘাস-খড় রাখা হয়। ভেতরে নিয়মিত কোনো খামার কার্যক্রম নেই। রাতে গরু এনে রাখা এবং সকালে সরিয়ে নেওয়াই মূল কাজ। এলাকাটিতে মোট ৮টি খামার রয়েছে, যার মধ্যে ৪টি নিবন্ধিত এবং ৪টি অনিবন্ধিত।

 

বোগলাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, রাতে খামারগুলোতে গরু ভর্তি হয়, আবার সকালে সেগুলো অন্যত্র চলে যায়। এতে স্থানীয় বাজারে গরুর দামে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে এক খামার মালিক বলেন, “আমি একা নই, আরও অনেকেই খামারে গরু রাখে। পাইকাররা কিনে এখানে রাখে, পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়।”

 

আরেক খামার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তারা কোনো অবৈধ গরু রাখেন না। তিনি বলেন, যারা গরু নিয়ে আসে, তারা নিজেদের গরু বলেই রাখে। রাতে রাখার জায়গা চাওয়ায় আমরা দিই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ইজারাদার জানান বর্ডার বন্ধ থাকায় কয়েক দিন গরু কম নামছে। এছাড়াও প্রশাসনের খুব কড়াকড়ি থাকায় সতর্ক রয়েছে জড়িতরা।

এই হাট গুলো বড় অংকের টাকা দিয়ে ইজারা নিতে এলাকায় রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় বোগলা বাজার গরুর হাট ইজারা পান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা যুগ্ম আহবায়ক ও বোগলা এগ্রো ফার্মের মালিক ফয়সাল জামান। তার আত্মীয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট বিভাগের অন্যতম সংগঠক আবু সালেহ নাসিম তাকে সহযোগিতা করেন। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ইজারা বঞ্চিত পক্ষ এ বছরের ২৯ মার্চ ঈদের আগের রাতে ফয়সাল জামান ও আবু সালেহ নাসিম কে হামলা করে গুরুতর আহত করে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়।

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির একটি আভিযানিক দল টাস্কফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ শহর এলাকায় সুরমা নদী হতে একটি ষ্টীল বডি গরু বোঝাই নৌকা আটক করে ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে নিয়ে যান। নৌকায় থাকা ৯০ টি গরুর বাজার মূল্য ছিল আনুমানিক কোটি টাকা। বিজিবি মামলা দায়ের করেন।

 

 

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, খামারের অনুমোদন নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান এর আগে এক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সীমান্তের গরুর হাট গুলো বন্ধ করার জন্য ইউএনও কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল স্বীকার করে বলেন আমি বিজিবি পুলিশ প্রাণী সম্পদ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিলে ও এখনও রিপোর্ট পাইনি। পেলে সম্মিলিত ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ডার এলাকার চার কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ ধরতে পারেনা এর পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা ধরি।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাঃ রফিকুল ইসলাম জানান আসন্ন কোরবানীর ঈদে সুনামগঞ্জ জেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৫০৪৯৪ আর প্রাপ্যতা ৫৩৪০১। এর মধ্যে ষাড় ২১১৭৫, বলদ ১১৮৯৭ গাভী ৬৮৪১ মহিষ ৪১৫ ছাগল ৭৯৬৩ ও ভেড়া ৪২২১। মোট গরু ৩৯৯৬০।

তিনি আরও জানান দোয়ারাবাজার উপজেলায় মোট চাহিদা ৪১১২ আর প্রাপ্যতা ৪৩৮৪। এর মধ্যে ষাড় ২১১০ বলদ ৫৪৫ গাভী ৮৬৪ মহিষ ২৪ ছাগল ৪৯০ ও ভেড়া ৩৪৯। মোট গরু ৩৫১৭।

প্রাণীসম্পদ অফিসার আরও জানান সুনামগঞ্জ জেলায় মোট নিবন্ধিত খামার রয়েছে ৭৩৭ টি। দোয়ারাবাজার সীমান্তে মোট ৮টি শেড থাকলেও ৪ টিনিবন্ধিত । এগুলো বন্ধের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান আগের মতই চলছে অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। গরুর হাট গুলো সীমান্ত এলাকা থেকে শিফটিং করার জন্য অনেক আগেই বলেছিলাম কিন্ত এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই। সীমান্তের একদম কাছে হাট থাকায় দেশী গরুর সাথে মিক্সড করে ফেললে টাস্কফোর্স ছাড়া যাচাই বাছাই করা খুবই মুশকিল। সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে।

সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন গত আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি পুলিশ ও ইউএনও কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে সীমান্ত দিয়ে যেন অবৈধ পথে কোন গরু প্রবেশ না করতে পারে। তিনি আরও বলেন জেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার জানিয়েছেন আমাদের জেলায় যে পরিমাণ গবাদি পশু রয়েছে এর বাইরে আর কোন প্রয়োজন নেই।