• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

সুনামগঞ্জে ধানের পর খড় ও নষ্ট হয়ে গো-খাদ্য সংকট চরমে।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত May 16, 2026
সুনামগঞ্জে ধানের পর খড় ও নষ্ট হয়ে গো-খাদ্য সংকট চরমে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ধান হারিয়ে এখন গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা। পর্যাপ্ত খড় সংগ্রহ করতে না পারায় এবং সংগৃহীত খড় পচে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র গো-খাদ্য সংকট। এই পরিস্থিতিতে শেষ সম্বল গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার ১২ উপজেলার কয়েক লাখ কৃষক। পশুর আহার জোগাতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে গরু-মহিষ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

 

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির প্রধান শক্তি গবাদিপশু। বছরের প্রায় ছয় মাস এসব পশু পুরোপুরি ধানের খড়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। কৃষকদের দাবি, গো-খাদ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ জোগান আসে বোরো ধানের খড় থেকে। কিন্তু এবার ধান তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক পর্যাপ্ত খড় সংগ্রহ করতে পারেননি। যেসব জমি থেকে ধান কোনোমতে কেটে আনা সম্ভব হয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই খড় শুকাতে না পেরে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সদর উপজেলার জানিগাঁও গ্রামের কৃষক সমছু মিয়া জানান, তাঁর ৯টি গরুর জন্য প্রতি বছর যে পরিমাণ খড় লাগত, এবার তার অর্ধেকও সংগ্রহ করা যায়নি। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন শান্তিগঞ্জের কৃষক রুহুল ইসলাম; তিনি জানান, খাদ্যের সংস্থান করতে না পেরে তিনি গরু বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাজ গ্রামের কৃষক মঙ্গল মিয়া, জয়নুদ্দিন, রেজুয়ান আহমদ জানান আমাদের দেখার হাওরের ফসল জলাবদ্ধতার কারণে সবার আগে তলিয়ে গেছে। জমি চাষ করতে অনেক টাকা খরচ করেছি কিন্ত এক গুটা ধান ও পাইনি সারা বছর কেমনে চলব আল্লাহ জানেন। আমাদের চেয়ে এখন গরু বাছুর নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ ধানের সাথে সাথে খড় ও পচে গেছে। খড় ছাড়া গরু ছাগলের আর কোন খাবার নেই। গরু ছাগল বাকী বছর কিভাবে লালন পালন করব এইটাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

শাল্লার উদগল হাওরের কৃষানী ছায়ারানী জানান ২৭বিঘা জমি করে ও ধান গেছে সাথে খড় ও গেছে। ধান হারানোর পর খড় হারানো যেন মরার উপর খাড়াঁর ঘা।

 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় পৌণে চার লাখ কৃষক আছেন চাষাবাদের জন্য গরু লালন পালন করেন। হাওরের মানুষ খড় দিয়েই লালন পালন করেন। শুকনো মৌসুমে মাঠে গরু চড়ান। জেলায় ৭ লাখ ৪০ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি-২০ লাখ টন খড় উৎপাদন হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১২০ কোটি টাকা। এ বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১৯৩ টি ছোট বড় হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ হয় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন খড় সংগ্রহ হলেও এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ খড় সংগ্রহ করা না গেলেও কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ভুসি, ধানের গুঁড়া ও খেসারির মতো কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করে পশুর পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে পারেন। তবে প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজার মূল্যে এসব বিকল্প খাদ্য কিনে গরু পালন করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। সংকটের এই মুহূর্তে সরকারিভাবে গো-খাদ্য সহায়তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাওরবাসী।

 

এদিকে হাওরাঞ্চলে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুরন ও গবাদিপশুর খাদ্য সংস্থান সহ নানা দাবীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছেন