ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি-ছিনতাই, মাদক ও মারামারির ঘটনা বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
গত রাতে ছাতক শহরের বাগবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের সঙ্গে থাকা তামার তার চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় বাগবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার অন্যান্য দিনের তুলনায় লোডশেডিংও বেশি ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ আসলেও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। পরে রাত ২টার দিকে তার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অসহ্য গরমে অনেক মানুষ ঘরের বাইরে ও রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করে রাত কাটান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদানীং ছাতক শহরসহ গ্রামাঞ্চলে চুরির ঘটনা বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও গরু চুরির ঘটনাও ঘটছে। শহরে বিদ্যুতের তার, লোহা, এসির পাইপসহ বাসাবাড়ির বিভিন্ন মালামাল চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকাতেও চুরির ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চরচৌড়াই (আশাকাচর) গ্রামের মো. সোনা মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনটি গরু চুরি হয়। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একই ইউনিয়নের ছিক্কা গ্রামের জামে মসজিদের তালা ভেঙে দুটি ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকাতেও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবসমাজের একটি অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে বিভিন্ন মালামালেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মাসুক মিয়া হামলার শিকার হন। সন্ধ্যায় হামলাকারীরা গরু কেনার জন্য রাখা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কিছুদিন আগে লাফার্জ হোলসিম কারখানা সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী শাহীনুর রহমান বাবুলের তিন লাখ টাকা দিনদুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
সব মিলিয়ে ছাতকে চুরি-ছিনতাই, মারামারি ও মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।