ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সাদ দাবি করেন, নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আসার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবির হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে কলেজ শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের দাবি, ছাত্রদল তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় শিবিরের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
গোবিন্দগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতি জানান, কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো মারামারি বা মিছিল-মিটিং হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পয়েন্টে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন।
ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের সময় স্থানীয় সংবাদকর্মী মোশাহিদ আলীকে হেনস্তা এবং তার ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।