• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত September 6, 2026

বিবিএন নিউজ:

লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভিডিও বার্তায় সরকারপ্রধানকে কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতার সিফাত আব্দুল্লাহর বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তদন্ত করেছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাসার বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়নি।

ভিডিও বার্তায় সিফাত আব্দুল্লাহ যে দুই মাসে ১০ হাজার টাকা বিল দেওয়ার কথা ভিডিওতে বলেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে জুলাই ও আগস্টে তিনটি আবাসিক মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।

 

 

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন এবং সিফাতের গ্রাহক কপির বিল পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই ও আগস্ট মাসের বিলের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কপি ও পল্লী বিদ্যুতের হিসাবের মধ্যে মিল রয়েছে।

 

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবার নাম মো. সেকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। মিটার তিনটি হলো—S0004337, S0002185 ও S000424*7।

এর মধ্যে S000433*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৩১৭ টাকা, জুনে ৫০ ইউনিটের জন্য ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের জন্য ৫১৩ টাকা। চার মাসে এ মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

 

S000218*5 নম্বর মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এ মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

 

অন্যদিকে, S000424*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এ মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

 

পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে চার মাসের বিলের হিসাব তুলে ধরায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে জুলাই ও আগস্ট মাসের তিনটি মিটারের বিল যোগ করলে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা হয়। সিফাতের গ্রাহক কপি এবং পল্লী বিদ্যুতের হিসাবেও এই পরিমাণ বিলের মিল পাওয়া গেছে।

 

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আহসান কবীর বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিলটি তদন্ত করেছি। তার বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়নি।’

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান বলেন, গ্রাহক সিফাতের বিল ও পল্লী বিদ্যুতের বিলের হিসাব ঠিক রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসের হিসাব প্রকাশ না করে চার মাসের হিসাব প্রকাশ করায় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে আরেক দফা সিফাতের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারকে কটূক্তি এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করে ভিডিও বানানোর অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।