• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণের নামে লুটপাটের অভিযোগ।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত September 10, 2026
সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণের নামে লুটপাটের অভিযোগ।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণের নামে লুটপাটের অভিযোগ। দায়সারা ভাবে ৫ হাজার গাছ লাগানোর নামে প্রকল্পের ১০ লক্ষ টাকাই জলে গেছে। বৃক্ষরোপণ করে গাছ বাচাঁনোর কোন ব্যবস্থা না করায় এখন গাছের কোন চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। ফলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ গাছ লাগানোর কিছু দিনের মধ্যেই গাছ গুলো উধাও হয়ে গেছে। কারণ শুধু গাছ লাগালেই হয় না, পানি সহ গাছের পরিচর্যা ও করতে হয়। এছাড়াও গরু ছাগলের হাত থেকে রক্ষার জন্য উঁচু বেড়া দিতে হয়। কিন্ত এসবের কিছুই করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি । ফলে সরকারের মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

 

জানা যায়, শান্তুিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বীরগাঁও সড়কে দুই পাশে ৪০০ গাছ রোপণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। মাস খানেক পূর্বে রোপণ করা এসব গাছের চারার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। সম্প্রতি

সরজমিনে পাগলা বীরগাঁও সড়কে গিয়ে দেখা যায়, রোপণকৃত বেশির ভাগ গাছই উধাও। বেড়া বিহীন এসব গাছের চারা এক থেকে দুইটি খুঁটির সাহায্যে প্লাস্টিকের এক টুকরো চটে আটকিয়ে রোপণ করা হয়। প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় তুলনাবিহীন নিচু চারা রোপণের কয়েকদিনের মাথায় গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারা গেছে অধিকাংশ চারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকারে ছোট গাছ গরু-ছাগলের খাদ্য ও পানির অভাবে শুকিয়ে মারা গেছে। গাছ প্রতি ৫০০ টাকা বরাদ্দ দিলেও কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা দিয়ে গাছ রোপণ করে বরাদ্দ লুপাট করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাছাড়া এমন দায়সারা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বীরগাঁও পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রুশন আলী বলেন,ছোট ছোট চারা খালি গর্ত করি একটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে রোপন করে গেছে কয়েক জন মানুষ। একেকটা চারা রোপনে বেশি হলে ৫০ টাকা খরচ পড়েছে। এর পরে আর কেউ চারার কোনো খবর রাখেনি। গুরু ছাগলে খেয়ে সব নষ্ট করে দিয়েছে।

জুবায়েল বক্স নামের এক তরুণ বলেন, সড়কে চারা রোপণে চরম অনিয়ম হয়েছে। এভাবে গাছ রোপণের চেয়ে না রোপণই ভালো। গাছ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই, নেই কোন পরিচর্যা । পরিবেশের সুরক্ষায় গাছ রোপণের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির দাবি করেন এই তরুণ।

উপজেলা শান্তুিগঞ্জ প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম জানান, রোপনকৃত কিছু গাছ চুরি হয়েছে। বাজেট পেলে নষ্ট হওয়া গাছ পুনবার্সন করা হবে।

জেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায় , রারিপ প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দে শান্তুিগঞ্জ-পাগলা বীরগাঁও সড়ক,জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ, জামালগঞ্জ -জয়নগর জিসি ভায়া নয়াগাঁও সড়ক সহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও আম্পান প্রকল্পের আওতায় আরও ১০ লাখ টাকার গাছ রোপণ করার পরিকল্পনার কথা ও জানান সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।

এল জি ই ডি নির্বহীরো প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান রোপণের পর যেসকল গাছ নষ্ট হয়েছে তা পুনরায় রোপণ করা হবে। তিনি বলেন, গাছ রোপনের পর শক্ত বেড়া দিতে হয়। তবে বরাদ্দ কম থাকায় এটি সম্ভব হয়ে উঠে না। চারাগাছ রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভলের জন্য মুজুরী দিয়ে লোক রাখতে হয়। তবে রারিপ প্রকল্পে এটি ধরা হয়নি। ঠিকাদারকে বলা আছে যেসব গাছ মারা যাবে সেগুলো আবার রোপণের জন্য। আম্পান প্রকল্পে যে ৫ হাজার গাছ রোপণ হবে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শ্রমিক ধরা রয়েছে। রোপণ কাজ সঠিকভাবে করতে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই।

পরিবেশ কর্মী হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন অপরিকল্পিত ভাবে কাজ করলে কোন কাজই সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না । বৃক্ষরোপণে অনিয়ম দুর্নীতির সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন।