• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দের মানববন্ধন।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত June 11, 2026
প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দের মানববন্ধন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ করার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবান নগর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন।

‎বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর বেলা ‘সচেতন কুরবাননগর ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎বক্তরা অভিযোগ করেন সাম্প্রতিক কালে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে

অনেক কৃষকদের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের জন্য তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলে। এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তাদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান লোকজন কে তালিকাভুক্ত করে বিতরণ করলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রতিবাদ জানান। ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু

বিএনপির নেতা কর্মী তাদের দলের ও নিজের স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে ও অভিযোগ মানববন্ধন কারীদের। তাদের দাবী অবিলম্বে এসব অনিয়মের তদন্তপুর্বক দ্রুত ব্যবস্তা গ্রহণের।

‎​মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এম এ বারি সিদ্দিকী, মাও: মাসুক, শাহিনুর রহমান শাহিন, কবি মাজহারুল ইসলাম, ওবায়দুল হক, সুহেল আহমদ, নূর আলম, পরান, মামুন, শফিকুল ইসলাম ও সালমানসহ শতাধিক স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।

‎​

‎প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সচেতন নাগরিকরা। দাবিগুলো হলো:

‎​১. বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তালিকা সংস্কার করতে হবে।

‎২. ত্রাণ বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

‎৩. ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা ও খরচের তালিকা নোটিশ আকারে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে হবে।

‎৪. এলাকার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

‎৫. দুর্নীতিরোধে সরকারি অনুদান প্রাপ্তদের তালিকা উন্মুক্ত করতে হবে।

‎৬. ইউনিয়নের সকল কাঁচা রাস্তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইটের সলিং বা উন্নয়ন করতে হবে।

‎৭. জন্মনিবন্ধনসহ সকল নাগরিক সেবা প্রদানে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

‎৮. বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সকল প্রকার অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে হবে।

‎৯. ইউনিয়ন অফিসে ‘বালতি প্রথা’ বাতিল করে ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে চাল ও অন্যান্য সামগ্রী পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।

‎১০. ইউনিয়ন পরিষদে রসিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

‎​এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এখন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।