সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারী ভাবে সহায়তার ঘোষনা করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য প্রদান কার্যক্রম শুরু ও হয়েছে। ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, শাল্লা সহ বিভিন্ন স্থানে তালিকাভুক্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলে কৃষকদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেক জায়গাতেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান এমনকি চেয়ারম্যান মেম্বার দের আত্মীয়স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম ও রয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ক্রমেই কৃষকরা ফুসেঁ উঠছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে প্রকাশ সুনামগঞ্জ জেলার ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম পাঠালে ৬৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত হয়। এই তালিকাভুক্তিতে অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অনেক সামর্থ্যবান দের নাম অন্তর্ভুক্ত দেখে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এসব তালিকাভুক্ত করতে আর্থিক লেনদেনের ও অভিযোগ রয়েছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের টানা তিন মাস তিন হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল দেবে।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকায় অনিয়মে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। পাইকুরাটি ইউনিয়নে ভাটগাও ৩নং ওয়ার্ডে সাধারণ কৃষকরা উত্তপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শনিবার (৬জুন) সকাল ১১ ঘটিকায় উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাও ৩ নং ওয়ার্ডের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বন্যা ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত কৃষকদের মধ্য বক্তব্য রাখেন ভাটগাও গ্রামের কৃষক মাসুক, আলেক মিযা, মাসুক তালুকদার, মো: দুলাল মিয়া তালুকদার, মো: মৌলা মিয়া, আব্দুল হাসিম, বকুল মিয়া তালুকদার, মো: কাউছার প্রমূখ। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বন্যা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকায় অনিয়ম করেছেন ৩নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রভাব কাটিয়ে আত্নীয় করণ ও টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম দিয়েছেন। সাধারণ কৃষকরা আরও বলেন, ভাটগাও গ্রামে প্রায় আড়াই শত কৃষকের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্য ৯টি কার্ডের পেয়েছেন এর মধ্য তিন জনের জমি নেই এরা গার্মেন্স কর্মী বটে। তাই এই অনিয়মে প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের উধ্বতন কতৃপক্ষের সুবিচার প্রার্থনা করি। পাশা পাশি আমাদের হাওর বন্ধু, সুনামগঞ্জ-১ এমপি কামরুজ্জামান কামরুল সাহেবের দৃশ্ষি আকর্ষণ করছি। এব্যাপারে পাইকুরাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, আমি কৃষি কার্ড সম্পকে জানিনা, কৃষি কার্ডের তালিকা করেছেন বিএনপি নেতারা, কৃষি অফিস ও মেম্বারা মিলে।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ও ধর্মপাশায় বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ঈদের আগে শাল্লায় ও বিক্ষোভ হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার সহ তাদের আত্মীয়স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক তার ছোট ভাই সাজ্জাদুল হক জুয়েল বি এন পি নেতা মাহবুব মুর্শেদ খোকন তার ভাই নিক্সন তালুকদার চাচাতো ভাই পহেল তালুকদারের নাম রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই মোবারক হোসেন যতন চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়া খায়রুল ইসলাম ও তোফায়েল আহমেদ এর নাম রয়েছে।
নওধার গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাজী নুর জানান আবু শ্যামা আকন্দ নামে এক বি এনপি নেতা ঢাকায় পোষাক কারখানায় কাজ করেন সে কৃষি কাজের সাথে জড়িত ও নন কিন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কিছু ভূল ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন। ইউএনও জনি রায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন এবং কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে পরে সংশোধন করা হবে বলেও জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান সবাই মিলেই তালিকাভুক্তির কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমির চাষ হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৬ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমি। জেলায় বড় কৃষক পরিবার ১২ হাজার ২৫১ জন মাঝারি ৬৭ হাজার ৮৯৮জন ক্ষুদ্র কৃষক ১লাখ ৪৬ হাজার৮৪০ জন প্রান্তিক কৃষক ৪৯ হাজার ১২৪জন।
জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বে থাকা হাসিবুর রহমান কে ফোন দিলে তিনি জানান গতকাল বৃহস্পতিবার এই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এখন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান কে ফোন দিলে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কে ফোন দিতে বললে তাকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।