বিবিএন ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যে সিম সোয়াপিং প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ পাউন্ড মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী অজয় শিনজিনকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চুরি করা অর্থের মধ্যে ৪৪ হাজার পাউন্ডের বেশি তাঁর কাছে এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লন্ডন, যুক্তরাজ্য: সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অজয় শিনজিনের বিরুদ্ধে অন্যদের সঙ্গে মিলে প্রতারণা এবং অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে দোষ স্বীকার করেন। ৮ অক্টোবর ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্ট তাঁকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বিটি (BT)-এর সিস্টেমে অননুমোদিত কার্যক্রম শনাক্ত হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ফোন নম্বর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিমে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এভাবে ভুক্তভোগীদের মোবাইলে পাঠানো এককালীন নিরাপত্তা কোড বা ওটিপি সংগ্রহ করে ব্যাংক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা সম্ভব হয়।
পুলিশের তদন্তে শিনজিনের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণায় ব্যবহৃত চারটি ডিভাইসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির তথ্য শনাক্ত করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড, আরেকজনের ১৭ হাজার পাউন্ড এবং অন্য দুজনের যথাক্রমে ৮ হাজার ও ১ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ডের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা ছিল।
পুলিশ জানায়, শিনজিন চুরি করা অর্থের ৪৪ হাজার পাউন্ডের বেশি পেয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে তিনি দুবাইয়ে বিলাসবহুল ভ্রমণ, লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ এলাকায় ব্যয়বহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকা এবং সোনার প্রলেপ দেওয়া দাঁতের অলংকার কেনার মতো বিলাসী জীবনযাপন করেন।
২০২১ সালে নিজের ফ্ল্যাট থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন শিনজিন। পরে দুবাই থেকে ফেরার সময় ২০২৩ সালের অক্টোবরে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নেওয়া হয়।
সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইমন আরডেম্যান ঘটনাটিকে জটিল ও পরিকল্পিত প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সিম সোয়াপিং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
সূত্র: সিটি অব লন্ডন পুলিশ,