• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

টিকটকে পরিচয় হওয়া তরুণদের সঙ্গে ‘নতুন জীবন’ শুরুর পরিকল্পনা, ঘর ছাড়ে পঞ্চম শ্রেণির ৪ ছাত্রী

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত October 14, 2026
টিকটকে পরিচয় হওয়া তরুণদের সঙ্গে ‘নতুন জীবন’ শুরুর পরিকল্পনা, ঘর ছাড়ে পঞ্চম শ্রেণির ৪ ছাত্রী

বিবিএন ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয় হওয়া কয়েকজন তরুণের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল কুমিল্লা নগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী। তাদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

 

পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হলেও চার শিক্ষার্থীর কেউই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ তাদের সন্ধানে নামে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

 

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং দেশের বিভিন্ন থানায় চার শিক্ষার্থীর ছবি ও পরিচয়সহ বেতারবার্তা পাঠায়। পরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহায়তায় সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনের বয়স ১২ বছর, একজনের ১৩ বছর এবং অন্যজনের আট বছর। আট বছর বয়সী শিশুটি পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর ছোট বোন।

 

টিকটকে পরিচয়, ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মুঠোফোন ব্যবহার করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। টিকটকে ভিডিও প্রকাশের সূত্রে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে।

 

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা বলেছে, পরিচিত ওই তরুণদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছাড়ে। তাদের পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় গিয়ে উপার্জন করা এবং নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করা। তবে যেসব তরুণের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তাঁদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না।

 

পুলিশের তথ্যমতে, একই পরিবারের দুই বোনের মধ্যে বড় বোনের সঙ্গে চার তরুণের পরিচয় ছিল। ১২ বছর বয়সী আরেক ছাত্রীর সঙ্গে দুই তরুণের এবং ১৩ বছর বয়সী ছাত্রীর সঙ্গে আরও দুই তরুণের যোগাযোগ ও সখ্য গড়ে ওঠে।

 

একই পরিবারের ছোট বোনকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ জানায়, বড় বোনের বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে ছোট বোন বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। পরে তাকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।

 

মুঠোফোন বিক্রি করে সংগ্রহ করে টাকা

 

বাড়ি ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীরা পরিবারের মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই বোনের একজন কুমিল্লার টাউন হল মার্কেটের একটি দোকানে পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেই টাকা নিয়ে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টার মধ্যে তারা ঢাকায় পৌঁছায়। সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। পরে চারজন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের একজনের দাদাবাড়ি ওই এলাকায়।

 

অটোরিকশাচালকের সন্দেহ, পরে উদ্ধার

 

চুনারুঘাটে পৌঁছানোর পর রাত হয়ে যাওয়ায় তারা পরিচিত ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে থাকে চার শিক্ষার্থী। তাদের আচরণ ও পরিস্থিতি দেখে চালকের সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান।

 

পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, অটোরিকশাচালকের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দ্রুত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারের যে মুঠোফোনটি বিক্রি করা হয়েছিল, সেটিও গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

 

সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারির পরামর্শ

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, বাসায় কীভাবে সময় কাটাচ্ছে এবং কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সেদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

 

সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা ও যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

 

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।