বিবিএন ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুবিধার প্রশংসা করে দেওয়া এক ফিলিপিনো নারীর সাক্ষাৎকার ঘিরে দেশটির অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে গণ-অভিবাসনবিষয়ক একটি তথ্যচিত্রের জন্য সাক্ষাৎকারে ওই নারী বলেন, হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা তিনি বিনা খরচে পাচ্ছেন।
ভিডিওতে নারীকে বলতে শোনা যায়, ইংল্যান্ডে বসবাস তাঁর কাছে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা। তাঁর নিয়মিত ওষুধও বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। হোয়াইটচ্যাপেলকে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী থাকার কথাও বলেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ‘এক ক্লিকেই’ পাস করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইংরেজ পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
ভিডিওটি সামনে এসেছে যুক্তরাজ্যে ইংরেজ পরিচয়, অভিবাসন ও জাতীয় সংস্কৃতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে। সাবেক কনজারভেটিভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যানের ইংরেজ পরিচয়কে জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক।
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের নেতা রবার্ট জেনরিক বলেছেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ সাংস্কৃতিক বা জাতিগত অর্থে ইংরেজ নন। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে কঠোর অবস্থান
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয় মঞ্জুর বন্ধ এবং বিচারাধীন প্রায় ৯০ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন নিষ্পত্তির পরিবর্তে তাঁদের বহিষ্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসীদের বহিষ্কার ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে মানবাধিকার-সংক্রান্ত আবেদন করার সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অংশ।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে ফিলিপাইনের লন্ডন দূতাবাসও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, যুক্তরাজ্যে ফিলিপিনোদের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের সামগ্রিক অবদান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত। বিচ্ছিন্ন অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকে বৃহত্তর ব্রিটিশ সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখা ঠিক নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
একজন নারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ঘিরে তৈরি এই বিতর্কে যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসীদের অধিকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে একজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন বা সরকারি সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।