বিবিএন ডেস্ক:
ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধা নিয়ে তথ্য গোপন করে একসঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে ইস্ট লন্ডনের ৫৫ বছর বয়সী কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তিনি অন্তত ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি চলছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করেন কাশিম চৌধুরী। ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি যোগ দেন পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক সরকারি বিভাগ ডেফরায়। পরবর্তী সময়ে ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টে যোগ দেন তিনি। এর মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চাকরি ছেড়ে দেন।
ডেফরা ও এনএইচএস ট্রাস্টে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ), ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড এবং হোম অফিসেও চাকরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি একসঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম চাকরি করেছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির আবেদনের সময় তিনি নিজের অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার কথা উল্লেখ করে বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা চাইতেন। এক প্রতিষ্ঠানে অসুস্থতার ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজে সময় দিতেন তিনি।
যেভাবে সন্দেহের সূত্রপাত
২০২৩ সালের মে মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির চাকরি থেকে অসুস্থতার ছুটি নেন কাশিম চৌধুরী। এ সময় ভিডিও কলে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর চেহারায় কিছু অসংগতি নজরে আসে। আদালতে জানানো হয়, অসুস্থ দেখানোর জন্য তিনি মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়। তাঁর মুখ ও ঘাড়ের রঙের পার্থক্য এবং ভিডিও কল চলাকালে কপালের মেকআপ সরে যাওয়ার বিষয়টি ম্যানেজারের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির একটি মিটিংয়ে তিনি ডেফরার ইমেইল ব্যবহার করে লগইন করার চেষ্টা করেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এরপর বিষয়টি ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভের নজরে আসে। তাদের পক্ষ থেকে ডেফরাকে অবহিত করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কথিত জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।
আদালতে আরও জানানো হয়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড তিনি উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এ মামলার শুনানি চলছে।