বিবিএন ডেস্ক:
সিলেট শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ ও সার্বিক নিরাপত্তায় সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর বামতীরের কানিশাইল এলাকায় নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে শুধু তীর প্রতিরক্ষা নয়, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনাও জরুরি। চলমান প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর প্রায় ৫১ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হবে। সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সুরমা নদী ও চেঙ্গার খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
চলমান প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, মিরেরচকে ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, টোকেরবাজারে ৫০০ মিটার এবং মিরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এছাড়া কুশি নদী ২৩ কিলোমিটার ও বাসিয়া নদী ২৩ কিলোমিটার পুনর্খনন এবং সুরমা নদীতে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ রয়েছে।
এছাড়া শারী-গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
সিলেটের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ ও সুরক্ষা সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিটি এলাকায় ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে ‘স্থানীয় তদারকি কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দেন।
সমাবেশে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নগরীর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।