• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

নদীপথে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ট্যাক্স বন্ধের দাবি সুনামগঞ্জের এমপিদের

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত September 14, 2026
নদীপথে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ট্যাক্স বন্ধের দাবি সুনামগঞ্জের এমপিদের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি, একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিকবার ট্যাক্স আদায়, নদীর পাড় কাটা, পলিথিন ব্যবহার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ভার্চুয়াল কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায়। এসব অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন জেলার সংসদ সদস্যরা।

 

সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

সভায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল নদীতে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নদীতে অবৈধভাবে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এক জায়গা থেকে চাঁদা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এর অর্থ জনগণকেই পরিশোধ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও আন্দোলন ও আলোচনা হয়েছে।

 

জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মো. জি কে গউছ এমপি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই সমন্বয় সভা। আলোচনার মাধ্যমে অনাচার, অবিচার ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। নদীপথে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

 

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে থাকলে সেটি অযৌক্তিক মনে হলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ডিও দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

সভায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন নদীপথে পলিথিন ব্যবহার এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একাধিক স্থানে ট্যাক্স আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন।

 

তিনি প্রশ্ন করেন, বিআইডব্লিউটিএ কোন কোন স্থান থেকে ট্যাক্স আদায়ের ক্ষমতা পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নৌযান নৌবন্দরে অবস্থান বা নোঙর করলে নির্ধারিত ট্যাক্স দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নদীপথে চলাচলের সময় বিভিন্ন স্থানে একই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিকবার ট্যাক্স আদায় করা হলে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

 

কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, তাহিরপুর বা অন্য কোনো এলাকা থেকে বালু নিয়ে নৌযান ছাতকের দিকে গেলে ছাতকে ট্যাক্স দিতে হয়। এরপর দোয়ারাবাজার ও সুনামগঞ্জেও ট্যাক্স দিতে হয়। এভাবে একই বাল্কহেডকে সাত-আট জায়গায় ট্যাক্স দিতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

এ বিষয়ে জি কে গউছ এমপি বলেন, একটি নদীপথে যদি সাত জায়গায় ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে এর খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

 

সভায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের ভার্চুয়াল কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল নদীর পাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

জি কে গউছ এমপি বলেন, অনিয়মের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলীয় কর্মী বা প্রশাসনের কেউ অনিয়ম করলে বিষয়টি আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। যেখানে যে অনিয়ম হচ্ছে, তা বন্ধে প্রশাসনের হাতে থাকা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।

 

সভায় জনপ্রতিনিধিরা নদীপথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ও একাধিকবার ট্যাক্স আদায়, নদীর পাড় কাটা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।