প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘরে আবাসিক এলাকা থেকে আবুল হাসনাত সুলায়মান (৪২) নামের একজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে। রবিবার রাত ৯টায় ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। তিনি শহরে একটি ট্রাভেলস পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়৷
আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর নিজস্ব আইডিতে ৩ ঘন্টা আগে একটি পোস্ট করেন।
নিহতের দেওয়া পোস্ট হুবহু দেওয়া হলো:
সিডিউল পোস্ট
ট্রাভেলস ব্যবসার এত বছরে কিছু মানুষের কারনে চরম অপমানিত হয়েছি। ছবিতে যে সিদ্দিক আহমেদ আছে সে আব্দুল কদ্দুস নামের তার সৌদিআরব প্রবাসী বোনজামাই এর অনেক ভিসা আমার মাধ্যমে প্রসেসিং করিয়েছে। একটা পর্যায়ে সিদ্দিক আর সিদ্দিকের বোনজামাই এর কাছে আমার পাওনা দাঁড়ায় ৫৩৩০০০/-(পাচ লক্ষ তেত্রিশ হাজার) টাকা। আমি একটা ভিসা সহ পাসপোর্ট আটকালে সিদ্দিক আমার অফিসে এসে আমাকে অনেক কাকুতি মিনতি করে বলে আমি যেন তাদের পাসপোর্ট টা দিয়ে দেই,সে নিজে এক মাসের মধ্যে আমার সম্পুর্ন টাকা পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু এক মাসের কথা বলে চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও আমার টাকা গুলো পাইনি। সে বা তার বোন জামাই কেউ ই আমার ফোন ধরেনা। বছরখানিক আগে আরপিন নগরের ময়না ভাই কৌশল করে সিদ্দিক কে ফোন দিয়ে আমার অফিসে আনালে আমি ময়না ভাইয়ের সামনে আমার পাওনা টাকার কথা বলি। সিদ্দিক ময়না ভাইয়ের সামনে,ময়না ভাইয়ের কাছে সীকার করে যে আমি তাদের কাছে টাকা পাই এবং ময়না ভাইয়ের কাছে কথা দেয় যে সে কিছুদিন এর মধ্যে আমার পাওনা টাকা দিয়ে দিবে। তিন মাস পরে আমি তাকে ফোন,মেসেজ দিলে আমার ফোন ধরেনা। এখনও পর্যন্ত আমার ফোন সে ধরেনা। ৫৩৩০০০/- কম টাকা নয়,সুনামগঞ্জ শহরে ট্রাভেলস ব্যবসা করে এত টাকা ইনকাম করা মুখের কথা নয়। এতগুলো টাকা মার খেয়ে আমি আজ চতুর্মুখি সমস্যায় জর্জরিত। আমার যদি কিছু হয় তাহলে এই সিদ্দিক দায়ী থাকবে।
????
এর পর যার ছবি আছে তার নাম কাওসারুজ্জামান তালুকদার। গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়ন এর ঝিগলি/দিগলি গ্রামে। সে লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা শামীম ভাইয়ের চাচাত ভাই। আমি তার কাছে ১৪০০০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ টাকা) পাই। এই টাকা আমি বিভিন্ন সময় ইতালি ওয়ার্কপার্মিট,ইতালি ওয়ার্কপার্মিট এর প্রসেসিং,সৌদিআরবের ভিসা প্রসেসিং কাজের জন্য দিয়েছিলাম,সে আমার কাজ করে দেয়নি। তার মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ অনেকদিন ধরে,মোবাইলে না পেয়ে আমি তাকে মেসেঞ্জারে সবসময় ফোন,টেক্সট,মেসেজ দেই। পরে সে তার সেই ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেয়। কয়েকদিন পর সে আরেকটা নতুন ফেসবুক আইডি খুললে আমি তাকে মেসেঞ্জারে অনেক কাকুতি মিনতি করে আমার টাকার কথা বলি। সে অনেক দিন যাবত দেই দিচ্ছি করে গত রমজানের ঈদে আমাকে মাত্র ২০০০০/-(বিশ হাজার টাকা) দিয়েছিল। এর পর থেকে তারিখের পর তারিখ করেই যাচ্ছে। আমি তার চাচাত ভাই শামীম ভাইকে একবার মেসেঞ্জারে ফোন দিয়ে আমার পাওনা টাকার কথা বলেছিলাম,তিনি বলেছিলেন বিষয় টা দেখবেন। পরে আর শামীম ভাই আমার ফোন ধরেননা। কাওসারুজ্জামান এর কাছে আমি যে টাকা পাই তার অনেক প্রমান মুছে গেছে তার পুরাতন ফেসবুক আইডি আর হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার কারনে। পরে তার বর্তমান ফেসবুক আইডি তে আমি নক দেওয়ার পর সে আমাকে অনেকবার ভয়েস মেসেজ দিয়েছে আমার টাকা দিবে দিচ্ছে বলে। সে যদি তার মেসেঞ্জার থেকে ভয়েস গুলো মুছে ফেলে তাই আমি সেই ভয়েস গুলো আমার আবুল হাসনাত আইডির মেসেঞ্জারে নিয়ে রেখেছি। কাওসারুজ্জামান এর সাথে মধ্যস্থতা করে আমার টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ঝিগলি গ্রামের ইব্রাহিম,সে কাওসার এর ঘনিষ্ঠ মানুষ এবং তাদের এক সাথে ব্যবসা আছে। ইব্রাহিম কে চিনেন ধারণ এর এড: ছায়াদ ভাই এবং ইব্রাহিম আমার বন্ধু সাহেদেরও বন্ধু।
আমার যদি কিছু হয় তাহলে কাওসারুজ্জামান তালুকদার ও এর জন্য দায়ী থাকবে।
শুধু এই দুইজন নয়,আরও অনেকে আমার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের লিষ্ট আমার অপো মোবাইলের Cash Book এপ্স এ লিখা আছে। আমার টাকা মাইরা খাওয়া বা আমার টাকা আত্মসাৎ করা মানুষের জন্য একদম সহজ একটা ব্যাপার ছিল। আমার টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে তাদের ব্যাপারে বিচার দিয়ে কোথাও বিচার পাইনি।
খোদা হাফেজ।
