• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

সুনামগঞ্জ শহরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পৌর বাসী চরম দুর্ভোগের শিকার।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত August 1, 2026

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

গত শুক্রবার সন্ধা থেকে অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকাতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে পৌর বাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ এখনও জলাবদ্ধতা নিরসনে তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেই জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব তেঘরিয়া,পশ্চিম তেঘরিয়া, উওর আরপিন নগর, দক্ষিণ আরপিন নগর, বড়পাড়া, জামতলা, জামাই পাড়া, নতুন পাড়া, উকিল পাড়া, কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর সহ অন্যান্য পাড়া মহল্লা এমনকি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্লাবিত হয়ে যায়। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।

 

গত রাতের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পশ্চিম নতুন পাড়া এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় পুরো এলাকার অলিগলি এখন হাঁটু পানির নিচে। এমনকি বহু বাসিন্দার বাসাবাড়িতে নোংরা পানি ঢুকে পড়ায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

 

​শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে পশ্চিম নতুন পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের গোসাইবাড়িসহ আশপাশের সমস্ত গলি পানিতে থৈ থৈ করছে। বাধ্য হয়েই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। নিচু ঘরবাড়িগুলোতে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা যেমন বেড়েছে, তেমনি ইতোমধ্যে যাদের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে তাদের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে, বন্ধ হয়ে গেছে রান্নার চুলাও।

 

​স্থানীয় বাসিন্দা বিমান মৈত্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের এই এলাকার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। ঘর থেকে থালা বাটি দিয়ে সেচে পানি বের করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই নরকযন্ত্রণা সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আজ পর্যন্ত দেখিনি।

 

​জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। মুদি দোকানি সজল রায় জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ক্রেতারা আসতে পারেন না, ঠিকমতো বেচাকেনাও হয় না। এমনকি কোনো রিকশাচালকও এই এলাকায় ঢুকতে চান না।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব তেঘরিয়া মড়লহাটি এলাকার জাহের আলী ও আব্দুল লতিফের বাড়ির পাশের ড্রেন উপচে পানি ঘরে ঢোকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেনের পাশের দুলাল মিয়ার স্ত্রী শিরিন বেগমের অভিযোগ সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর ড্রেনের নোংরা পানি প্রবেশ করে তখন খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হই। পৌর কর্তৃপক্ষ কে জানালে মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কার করে দেন কিন্ত কোন স্থায়ী

​কোন সমাধান করা হয়নি। ঐ এলাকার মড়লহাটি থেকে গড়াপাড়া হয়ে লম্বা হাটি সড়কের অবস্থা আরও খারাপ। সামান্য বৃষ্টির কারণে হাটুঁ সমান পানি জমে যায়। পূর্ব ও পশ্চিম তেঘরিয়া খালের ড্রেন উপচে ঘর বাড়িতে পানি প্রবেশ করে নানা বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিবেশ ও সমাজ কর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন সুনামগঞ্জ শহরে এক সময় অনেক খাল ছিল। এসব খাল দিয়ে প্রাকৃতিক ভাবেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত। অনেক খালের মূখ বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি পৌরসভা ও খালের উপর ড্রেন নির্মাণ করেছে। যে কারণে প্রশস্ত পথে পানি নিষ্কাশন হতো এখন সংকীর্ণ হওয়ার কারণেই পানি নিষ্কাশনের সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন পৌর কর্তৃপক্ষের খাল পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত নগরায়ন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব না । পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন আমরা খাল পুনরুদ্ধার সহ পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় একপি প্রকল্প গ্রহণের চিন্তা করছি।

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অত্র এলাকার নালানর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং স্থানীয়দের যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার মানসিকতাই এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ। পাশাপাশি স্থানীয় পুকুর ও জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

​এদিকে দীর্ঘদিন পানিতে জমে থাকার ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

​জলাবদ্ধতার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কালি কৃষ্ণ পাল বলেন, পৌরসভা থেকে কিছুদিন আগেও ওই এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা দ্রুতই আরও প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

​তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা জানান, অস্থায়ী পদক্ষেপ নয় বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে পানিনিষ্কাশন এবং একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।