• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

অবৈধ বালু- খেকোদের বিরুদ্ধ টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত July 6, 2026
অবৈধ বালু- খেকোদের বিরুদ্ধ টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার বালুমহালসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

​সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। সভায় জেলার পরিবেশ রক্ষা, নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় বালুমহাল সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

​উক্ত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নূরুল ইসলাম নুরুল এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এছাড়া জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং অবৈধ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারকরণ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম।

 

​সভায় বক্তারা জেলার বালুমহালসমূহের আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশেষ করে জেলার জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত নদীগুলোর পাড় রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নির্বিচারে নদীর পাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ছাতক, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুরসহ জেলার যেসব এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন চলছে, সেখানে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) ও টাস্কফোর্সের নিয়মিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। শুধু দিনের বেলাই নয়, রাতের আঁধারে যারা নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

​পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম তাঁর বক্তব্যে বলেন, নদী ও পরিবেশ ধ্বংসকারী সিন্ডিকেট যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। টাস্কফোর্সের অভিযানে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করবে।

 

​সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সরকারি নিয়ম অমান্য করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া যাবে না। যারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কিংবা ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করবেন, তাদের ইজারা বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

 

​সভায় জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। জেলার সচেতন মহল প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করেছেন।