সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত বর্তী তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীর কেটে চলেছে একটি শক্তি শালী সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ধরেই এসব কাজের সাথে জড়িত মূল হোতা ২৩ মামলার আসামী রানু মেম্বার এখনও অধরা থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন দিনে ও রাতের আঁধারে রানু মেম্বারের নেতৃত্বে একটি শক্তি শালী বালু খেঁকো চক্র যাদুকাটা নদীর তীর কেটে পর্যটন স্পট শিমুল বাগান ও নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতু হুমকির সম্মুখীন হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবী দ্রুত মূল হোতা সহ যারাই জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতাধীন নিয়ে আসার। সাম্প্রতিক কালে তীর কাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা যায়
শিমুল বাগান সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু লুটের ঘটনায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছয়জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ দুই জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলাটিতে।
(১৫ জুন) রাতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুল কাইয়ুম খান।
মামলার আসামিরা হলেন-ঘাগটিয়া গ্রামের মৃত একলাছ মিয়ার ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসাহিদ হোসেন রানু,তার সহযোগী উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাণিগাঁও গ্রামের ছাদেক মিয়ার ছেলে হাসান আলীসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাত রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে উপজেলার ইজারাবিহীন মাণিগাঁও শিমুল বাগানের সম্মুখে যাদুকাটা নদী থেকে ইউপি সদস্য মোশাহিদ হোসেন রানু ও হাসান আলীর নেতৃত্বে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে ৮-৯টি স্টিলবডি ট্রলারে করে বালু নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ২ শতাধিক ঘনফুট খনিজ বালুবোঝাই একটি স্টিলবডি (ইঞ্জিনচালিত) ট্রলার।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান,যাদুকাটা নদীতে শত শত ড্রেজার ও সেইভ মেশিন চালানোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না আর আটক ও হয় না। এ কারনে বালুখেকো চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধু রানু মেম্বার আর হাসান আলীই শুধু নয় এর সাথে স্থানীয় প্রভাবশালীরাও জড়িত রয়েছে। তাদের কেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজনীয় একেই সাথে তাদের কারা মদদ দিচ্ছে তাদের কেও চিহ্নিত করে নাম প্রকাশ করে আইনের আওতায় আনা হউক।
মামলা দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সালাউদ্দিন মোল্লা।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম জানান রানু মেম্বার ২৩ মামলার আসামী। তাকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান সুনামগঞ্জ জেলার ধোপাজান ও যাদুকাটা নদীতে অবৈধ ভাবে বালু-পাথর লুটপাঠে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১ মামলায় ২৯৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রানু মেম্বার সহ জড়িত দের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি আরও জানান পুলিশ প্রতিনিয়ত মামলা দায়ের করে এমনকি ধরে আদালতে সোপর্দ করে কিন্ত জামিনে সাথে সাথেই বের হয়ে আসে। এজন্য মোবাইল কোর্ট করে সাজার ব্যবস্থ করতে হবে।