সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল শনিবার থেকে দেশব্যপী উদ্বোধন হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ববধানে আয়োজিত এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচী ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচী ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের খেলোয়ার তৈরীর একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে দেখছেন দেশবাসী।
২ মে (শনিবার) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের অন্য সকল জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সুনামগঞ্জ ষ্টেডিয়ামেও প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়ালি উদ্বোধনে যুক্ত ছিলেন সুনামগঞ্জবাসী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- স্হা্থনী সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ পরিচালক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক,
পুলিশ সুপার এবি এম জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মতিউর রহমান, , অতিরক্তি পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেরিন সুলতানা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, নাসির উদ্দিন লালা, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এর জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি লুৎফা আনোয়ার, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুরাইয়া বেগম, সাধারণ সম্পাদক শাহানা আলম, সদর উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদল নেতা সাদিকুর রহমান চৌধুরী, ইয়াহইয়া হাসান প্রমুখ।
মেগা এই ক্রীড়া আয়োজনে ৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, এ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা প্রমানের সুযোগ পাবে।
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর ও ৪৪,১৩৩ জন কিশোরী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে সিলেট জেলায়। এরপরই ৯৩০৫ রয়েছে চট্টগ্রাম ও ৮৮৯৬ জন রয়েছে ঢাকায়। আজ উপজেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়ার পর খেলা উদ্বোধন হয়। আগামী ১৩-২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই।
পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চগুলোর মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোন মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে প্রতিটি পর্যায়ে নক আউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ীয় সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরুপ সনদপত্র প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিনত করার সুযোগ থাকবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরী হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ঠরা আশাবাদী। একইসাথে আগামী দিনের ক্রীড়া উন্নয়নে এই কর্মসূচীকে একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।