• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

আন্দোলন নির্বাচন শেষ হয়েছে চ্যালেঞ্জ হয়নি শেষ, ত্যাগীরা যেন উপেক্ষিত হয়ে হারিয়ে না যায়: মো: নিজাম উদ্দিন

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত April 14, 2026
আন্দোলন নির্বাচন শেষ হয়েছে চ্যালেঞ্জ হয়নি শেষ, ত্যাগীরা যেন উপেক্ষিত হয়ে হারিয়ে না যায়: মো: নিজাম উদ্দিন

মো:নিজাম উদ্দিন:তৃণমুলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী পরিশ্রমী সাহসী সহকর্মী নেতৃবৃন্দের অপমান অবমূল্যায়ন দেখলে সত্যি অনেক কষ্ট হয়। আন্দোলন নির্বাচন শেষ হয়েছে ত্যাগীরা উপেক্ষিত হচ্ছে। দলের দুঃসময়ে যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে সর্বস্ব উজাড় করে দলকে বাঁচাতে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছে, আজকে অনেকেই বঞ্চিত হয়ে মনোকষ্টে নিরব হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের যত অপকর্ম ছিল, এমন কিছুতে বিএনপির নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, অথচ দেশের মানুষ চেয়েছিল পরিবর্তন। দলকে ভালোবাসি বলেই অনেক অপকর্ম দেখলে লিখতে পারিনা, আবার দলের ক্ষতি হয় তাই নিরবও থাকতে পারি না। একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের মতো বাংলাদেশ, রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে, এর মধ্যে হাজারো চ্যালেঞ্জ হাজারো ভুল। বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা! নেতিবাচক অপপ্রচারের জবাব খুব দূর্বল। যারা রাষ্ট্র চিন্তা করে তারা অনেকেই বিএনপি বিরোধী, কিন্তু কেন? অন্তবর্তী সরকার যখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইন করলো বিএনপি বলেছিল ব্যক্তির অপরাধের বিচার হউক কোন সংগঠন নিষিদ্ধ আমরা চাই না, জামায়াতে ইসলামী ছিল উল্লসিত। বিএনপি এখন ক্ষমতায়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইন যখন কার্যকর করলো জামায়াতে ইসলামী মনোকষ্টে বলছে কোন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে তারা নেই। রাজনীতির খেলা বড়ই অদ্ভুত! এই বিষয় বিএনপি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলেও অনেক সমালোচিত হতো। তাহলে কি ধরে নেব নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সাথে গোপন কোন সমঝোতা করেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আইন বাতিল করবে? জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে এতো, এ-তো ভোট তো আর এমনি এমনি পায়নি। এটা মাথায় রেখেই বিএনপিকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপির যারা এমপি মন্ত্রী হয়েছেন দয়া করে তাদের পরিবারের কোন সদস্যকে সরকার বা দলের সাথে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বিরত রাখুন, তা না হলে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী দলের বিরুদ্ধে কষ্ট অভিমান অবিচারে ফুঁসে ওঠবে এবং এটা তার ন্যায্যতা। ধরে নিলাম এমপি মন্ত্রীদের সন্তানরা খুব মেধাবী, তাই বলে তাকে কেন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিতে হবে? সেখানে তো দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা কর্মীটির দায়িত্ব পাওয়াটাই প্রাপ্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অতি সাধারণের মতো চলাফেরা জন আকাঙ্খাকে স্পর্শ করেছে, তার অনেক সাফল্য অন্যান্য মন্ত্রী এমপি নেতাদের আচরণে কুর্পের মতো যেন হারিয়ে না যায় এই উপলব্ধিটুকু করবে কে?

সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস কিন্তু চাপ নিতে হচ্ছে সতেরো বছরের, আরো অধিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। মিডিয়ায় যারা ঝড় তুলেন অসম্ভব প্রভাবশালী জনপ্রিয় তারা কেন সরকারের পক্ষে নেই? সরকার যতোই জন আকাঙ্খা চাহিদা পুরনে ভুমিকা রাখুক, এরা পক্ষে না থাকলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে প্রতিদিন।

আমি কেন এসব লিখছি এসব লিখার কি খুব প্রয়োজন? অনেকে বলে আজ এই সময়ে আমি কেন দেশের বাহিরে, অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি, ভাগ্য বিড়ম্বনা আমি আমাকে চিনতে পারিনি এর বেশি কিছু বলতে পারি না। আমি তো অনেককে কষ্ট দিয়েছি কিছু কষ্ট না হয় নিজের জন্যই থাকুক।

আর বেশি কিছু না পারলেও দলের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে যেখানে যতদূরে থাকি না কেন সাধ্য মতো দলের জন্য লেখালেখি চালিয়ে যাব।

 

পরিশেষে বলি মাননীয় মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ভাই আমার পছন্দের অত্যন্ত পরম শ্রদ্ধেয় একজন নেতা, মাসুদ অরুণ ভাইয়ের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক।

সাগরের বিশাল বড় জাহাজের ছোট্ট একটা ছিদ্রের কারণে জাহাজটি ধীরে ধীরে ডুবে যেতে পারে, শুধু এতটুকু উপলব্ধি করতে পারলে বিএনপি সম্মান রক্ষা করতে পারবে।

 

লেখক: মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান

সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।

(এই লেখার জন্য সম্পাদকীয় পরষদ দায়ী নয়।)