• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষা বাঁধ এখন কৃষকের গলার কাটাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত April 1, 2026
জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষা বাঁধ এখন কৃষকের গলার কাটাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার চলমান ফসল রক্ষা বাঁধ জলাবদ্ধতার কারণে এখন কৃষকের গলার কাটাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পানির নীচে চোখের সামনেই তলিয়ে যাবার ফলে কৃষকরা কোন কোন স্হানে বাঁধ কেটে পানি বের করার চেষ্টা করছেন।

বাঁধ কাটতে গিয়ে আবার প্রশাসন ও পাউবোর বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোথাও কোথাও এ নিয়ে কৃষকদের সাথে প্রশাসনের মূখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদর,শান্তিগঞ্জ,দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের শস্য ভান্ডার খ্যাত বিশাল দেখার হাওরের অবস্থান। এই পুরো হাওরের আবাদ কৃত জমির পরিমাণ ৯ হাজার ২শ ৬১ হেক্টর। এই বিশাল হাওরের মধ্যো আরও ছোট ছোট কয়েক টি হাওর রয়েছে যেমন বইসা,পাও ধোঁয়া,মিয়ার টেকা,ডাক বন্ধ,ঘুঙ্গিয়ার হাওর,ভিতরের বইসা,গছিয়ারাম,ঝাউয়া ও শিয়ালমারা সহ অনেক হাওরের অন্তত ৫শ একর জমি রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগরি,হরিপুর,কলাউরা,রৌয়ার পাড়,দরিয়াবাজ ও আব্দুল্লাহ পুর সহ অন্যান্য গ্রামের মানুষ এই সব ছোট ছোট হাওরে বোরো ধান আবাদ করে। কিন্ত প্রতি বছর বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষের কাচা পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে যায়। এলাকাবাসী চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ২০২৪ সালে দেখার হাওরের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করলে এলাকার মানুষ মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করলে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন, পাউবো ,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ সবাই পরিদর্শন করেন। তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ একটি স্লূইস গেট নির্মাণ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ নিয়ে কাজ করেছেন কিন্ত বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। এবার ও বৃষ্টির পানির কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৫শ একর বোর জমি পানির নীচে তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে এমনটা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রেদওয়ান আলী জানান আমাদের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের পাশে মহাশিং নদীর নিকট উথারিয়া বাধঁ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের অসুবিধা দেখা দিয়েছে। এখানে তিনটি পাইপ পানি নিষ্কাশনের জন্য দিলে তা যথেষ্ট নয়। ঐ এলাকার নুর আহমদ , মঙ্গল মিয়া সহ সবার দাবী একটি স্লূইস গেট নির্মাণ করা হলে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও বরাদ্দ না থাকায় স্লূইস গেট নির্মাণ কাজ এগোয়নি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জোয়াল ভাঙ্গা হাওরের ফসল ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের প্রচুর জমি এখন পানির নীচে। গত কয়েক দিন আগে এই এলাকার কৃষকরা মিলে বাঁধ কেটে দেয়। খবর পেয়ে প্রশাসন গিয়ে বাধা প্রদান করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ধর্ম পাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।এই দুই উপজেলার হাওরে ৩১হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৯৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার টগার হাওরের ফসল বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শাল্লা উপজেলার নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধ এখন কৃষকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কিছুদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে হাওরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল হুমকির সম্মুখীন। এ পরিস্থিতিতে অনেক জায়গাতেই কৃষকরা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে জলাবদ্ধ পানি বের করার চেষ্টা করছেন। ফলে পাউবোর ও প্রশাসনের সাথে কৃষকদের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন কৃষক গণ। তাদের দাবী স্হায়ী সমাধান যেমন স্লূইস গেট নির্মাণ, নদী ও হাওর খনন করতে হবে। দ্রুত স্হায়ী সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

হাউস এর নির্বাহী পরিচালক ও হাওর গবেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন হাওরের জলাবদ্ধতার মূল কারণ ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় এবং অ পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করা। জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে অ প্রয়োজনীয় ও অ পরিকল্পিত যে সব বাঁধ জলাবদ্ধতার কারণ ঐ সব বাঁধের নীচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন অ পরিকল্পিত ও অ প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ করার ফলে হাওরের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাওরে বেশী বেশী বাঁধ দিয়ে হাওর কে চারিদিকে পুকুর বানিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করার ফলে সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই সব সমস্যার স্হায়ী সমাধান করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বাচাঁতে সরকার কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে জরূরী ভিত্তিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন হাওরের পানি স্লূইস গেট দিয়েই নিষ্কাশন হয়। যেখানে জলাবদ্ধতা সেখানে আরও স্লূইস গেট নির্মাণ করতে হবে।