নিজস্ব প্রতিবেক:
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আর শেখ হাসিনার মধ্যে প্রার্থক্য কি? শেখ হাসিনা প্রতিশোধ পরায়ণ, প্রতিদিন বিরোধী মতের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক কথা বলতেন, মিথ্যা গায়েবি মামলা দিতেন। কাউকে পাত্তাই দিতেন না, নিন্দার তোয়াক্কা তার ছিল না। Police এবং RAB কে ব্যবহার করে দমন পীড়ন চালিয়ে সভা সমাবেশে হামলা করে রাজপথ তার নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে ইন্ডিয়ার প্রতি প্রচন্ড আনুগত্য ছিলেন। এবং গণতন্ত্র বাক স্বাধীনতা হরণ, বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করে অর্থনীতি ধ্বংস করে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে তার মতো করে ব্যবহার করেছেন। অন্য দিকে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস কথা বলেন কম, অতি সুকৌশলে রাষ্ট্রকে তার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস শুধু পুলিশের উপর ভর না করে, গঠন করেছেন নতুন রাজনৈতিক দল NCP, কিছু সুশীল সমাজপতি বিশিষ্টজনদের ম্যানেজ করে নিরব রাখছেন।
কিছু রাজনৈতিক দল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিছু কিছু সুবিধা দিয়ে পরিস্থিতি তার অনুকূলে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেক প্রশ্নের জবাব অতি কৌশলে এড়িয়ে চলেছেন। উদ্দেশ্য পরিস্কার সুযোগ পেলেই ক্ষমতা প্রলম্বিত করা। বিএনপির চেয়ারপার্সনের সম্মানিত উপদেষ্টা এডভোকেট ফজলুর রহমান যথার্থই বলেছেন, NCP মানে ন্যাশনাল চিলড্রেন পার্টী। এই পার্টীকে যেভাবে ক্ষমতা সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে NCP হবে এই সরকারের জন্য চরম অভিশাপ। নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সার্জিসরা বিএনপি সহ অন্যান্য দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার সাহস পায় সরকারের প্রশ্রয়ে। এটা সরকারের পাতানো খেলা।
মায়ানমারের সাথে করিডোর মানবিক চিন্তা নাকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র? দেশের জন্য অবিনাশী সর্বনাশের কারণ হতে পারে! জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।
নিঃসন্দেহে কয়েকজন উপদেষ্টা বিতর্কিত, বিগ্রেডিয়ার শাখাওয়াত হোসেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মাহফুজ আলম এরা কারা? এরা কোন ভাবেই দেশপ্রেম ধারণ করে না। বিতর্ক সংস্কার কার্যক্রম, অনেকটা লক্ষ্য উদ্দেশ্যহীন গনবিরোধী। অভিশপ্ত বাংলাদেশ, যুগে যুগে অধিকারের জন্য রক্তনদীতে স্বপ্ন ভাসে! বৃটেন কিংবা ইউরোপ নয়, এটা ক্ষত বিক্ষত বাংলাদেশ! এখানে আছে অনেক দেশের লোলুপ দৃষ্টি।
এই সরকারের সংস্কার কার্যক্রম যেন আষাঢ়ের গল্প। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পদ্ধতির যে সংস্কার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অপূরনীয় ক্ষতি হবে। নির্বাচন হয়ে যাবে নিরুত্তাপ নিরানন্দ, অর্থলোভী পেশিশক্তির দাপট বাড়বে। অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে, মানবাধিকার উদ্বেগজনক। উদ্দেশ্যমুলক মব জাস্টিসের শিকার হচ্ছে অনেকেই।
স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো এলোমেলো। এভাবে একুশজন উপদেষ্টা দিয়ে দীর্ঘদিন একটা রাষ্ট্র চলতে পারেনা।
সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন চাওয়াটাই যেন আজ অপরাধ! জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুদুর পরাহত হচ্ছে! কিন্তু কেন?
আমার প্রশ্ন, উপদেষ্টা পরিষদে যারা আছেন তারা কি বিতর্ক মুক্ত? রাষ্ট্রের জন্য তারা কি করতে চায় তাদের উদ্দেশ্য কি পরিস্কার? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণ আকাঙ্খার ভিতর কি তারা আছেন? যারা বিগত ১৭বছরে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাদের কে কি বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারছেন? দেশের মানুষ চেয়েছিলো ক্ষমতার অপব্যবহারকারী দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক অর্থপাচারকারী, এদের কঠিন শাস্তি যেন হয়। এরা জামাই আদরে দেশের বাহিরে পালিয়ে গেল, দেশেও বেশ নিরাপদে। তাহলে কেন নির্বাচন প্রলম্বিত?
অফসোস- আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আদনান, ওয়াসিম সহ দুই সহস্রাধিক বিপ্লবীর আত্মত্যাগ জীবন উৎস্বর্গ একদম কি নিস্ফল? বছরে একদিন তাদের স্বরণ করা হবে। শুধু এতটুকই কি তাদের প্রাপ্য?
লেখক:- মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান
উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক সুনামগঞ্জ।
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।