নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের ছাতকে নিজের কিশোরি মেয়েকে ধর্ষণের পর চার মাসের অন্ত: স্বত্ত্বা করেছে কুলাঙ্গার এক পিতা। বিষয়টি ধাঁমাচাপা দিতে স্থানীয় হাসপাতালের জনৈক এক নার্সের মাধ্যমে অবৈধ গর্ভপাতও ঘটানো হয়েছে। সরজমিনে ঘুরে তিন সাংবাদিকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য বেরিয়ে আসলে পুলিশ ফয়েজ উদ্দিন (৪০) নামের ওই কুলাঙ্গার পিতাকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সে উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের একটি গ্রামে সাঞ্জব আলীর পুত্র। নিজের মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। পরে জামাতাকে আসামি করে শাশুড়ির দায়েরি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে থাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সে কারাভোগ করছে। এদিকে ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, তিন সন্তান রেখে এক বছর আগে ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী মারা যান। মা মারা যাওয়ার পর স্কুল পড়ুয়া বড় কন্যা লেখা-পড়ার পাশাপাশি সাংসারিক কাজে হাল ধরে। সে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনির ছাত্রী।
সম্প্রতিক সময়ে কুলাঙ্গার পিতা কিশোরি কন্যার দিকে কু-নজর দেয়। কিশোরি কন্যাকে জোর পূর্বক বসত ঘরে ধর্ষণ করে ওই নরপশু পিতা। এর পর থেকে সে তার কন্যাকে প্রতিদিন ধর্ষণ করে আসছিল। কাউকে এই বিষয়টি না বলার জন্য কন্যাকে প্রতিদিন বলে বলতো পিতা। এদিকে, লোক লজ্জার ভয়ে কন্যা বিষয়টি গোপন রাখে। এক সময়ে সে অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। তার শারিরিক পরিবর্তন দেখে সম্প্রতি পিতা তাকে পাঠিয়ে দেয় উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের শশুরালয়ে। পরে ২৭ আগষ্ট স্থানীয় কৈতক হাসপাতালের এক নার্সের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ওই কিশোরিকে। জনৈক নার্স অত্যন্ত সু-কৌশলে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের বাহিরে অজ্ঞাত স্থানে তিনি অবৈধ এ গর্ভপাত ঘটান। কিন্তু রহস্য জনক কারণে ওই নার্সকে এখনও গ্রেফতারের আওতায় আনা হচ্ছে না।
এ বিষয় নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। এলাকার মান সম্মান যাবে এই ভেবে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে বিষয়টি ধাঁমাচাপা পড়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য আসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে। সত্যতা নিশ্চিত হতে গেল বুধবার ছাতক প্রেসক্লাবের তিন সাংবাদিকদের একটি টিম সরজমিন অনুসন্ধান চালায়। এক পর্যায়ে ভিকটিম সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য দেন। এতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণ। ভিকটিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে বিষয়টি অবহিত করেন সংবাদকর্মীরা। খবর পেয়ে তিনি ওইদিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কুলাঙ্গার ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেফতার ও চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুলাঙ্গার পিতাকে গ্রেফতার করায় এলাকার সচেতন মহলরা খুশি। তারা ওই কুলাঙ্গারের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। পাশাপাশি অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো সেই নার্সকে গ্রেফতারের আওতায় আনার দাবী জানানো হয়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে ভিকটিমের নানি বাদি হয়ে একটি মামলা দিয়েছেন। আসামিকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
