• ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সুনামগঞ্জে জলমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলেকে গলা কেটে হত্যা,গ্রেফতার ৮

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২১
সুনামগঞ্জে জলমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলেকে গলা কেটে হত্যা,গ্রেফতার ৮

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার ধর্ম পাশা উপজেলার সুনই জলমহালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষের কারণে শ্যামাচরণ বর্মণ নামে একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। পুলিশ এ  পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে গ্রেফতার এড়াতে এলাকার পুরুষ মানুষ অন্যত্র গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

খোঁজ নিিয়ে জানা যাায়, ১৪২২ বাংলা সন হতে চলতি ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৬১ টাকা ইজারামূল্যে জলমহাল তীরবর্তী সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয় সরকার। ওই সমিতির পক্ষে চলতি ১৪২৭ বাংলা সনের ইজারা মূল্যসহ অন্যান্য সরকারি কর যথারীতি পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জলমহালের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সমিতির দুই প্রভাবশালী সদস্য চন্দন বর্মণ ও সুবল বর্মণ লোকজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরপর থেকে জলমহাল দখল রাখতে উভয়পক্ষ মরিয়া হয়ে ওঠে। এ ঘটনার আগেও জলমহলের দখল নিতে পাল্টাপাল্টি মহড়া দেয় দুই গ্রুপের সদস্যরা।
এদের এক পক্ষের নেতৃত্ব দেয় চন্দন বর্মণ ও অন্যপক্ষের নেতৃত্ব দেয় সুবল বর্মণ। এই দুই পক্ষই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনার পরই আটজনকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই ওই গ্রামের পুরুষরা গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ গ্রামবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অহেতুক কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না। এ ঘটনায় রাতেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর একটি সূত্র জানায়, হামলা অগ্নিসংযোগ লোপাটের পর সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সুনই জলমহালে শ্যামা চরণ বর্মণ (৬০) নামে এক জেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে॥

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুবৃক্তরা জলমহালে ঢুকে জেলেদের ঘরে অগ্নিসংযোগ,মাছ ধরার কয়েক লাখ টাকার জাল,নগদ টাকা,আসবাবপত্র লোপাট করে।
জেলে শ্যামা চরণ বাধা দিতে এলে তাকে রামদা দিয়ে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করা হয়।
শ্যমা চরণ বর্মণ ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের প্রয়াত গঙ্গাধর বর্মণের ছেলে ও সুনই মৎসজীবী সমবায় সমিতির সদস্য।
নিহতের ভাগ্না উপজেলার সুনই গ্রামের বিশ্বজিৎ বর্মণ জানান, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি এবং তার সহোদর ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রোকনের লোকজন বৃহস্পতিবার সাড়ে ৭টা হতে ৮টার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র, নানা ধরণের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জলমহাল দখলে নামে।

বাঁধা দিতে এলে তারা জলমহালে থাকা জেলেদের একটি ঘরে আগুন জ¦ালিয়ে ধরিয়ে দেয়। এরপর অপর একটি ঘরে থাকা মাছ ধরার কয়েক লাখ টাকার জাল, নদগ টাকা, আসবাবপত্র লোপট করে।
বাধা দিতে এগিয়ে তারা জেলে শ্যামা চরণ বর্মণকে রামদা দিয়ে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করে। লাশ ফেলে রাখা হয়। মারধর করে অনেক জেলে ও তাদের পরিবারের লোকজনকে। জলমহালে থাকা নারী পুরুষ জেলে সহ কমপক্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হন।
এদিকে এমন তান্ডবের পর আহত জেলে ও জেলে পরিবারের লোকজনের আর্তচিৎকার শুনে জরমহালের আশেপাশের থাকা গ্রামের লোকজন প্রতিরোধে এগিয়ে আসার পরপরইে দুবৃক্তরা সুনই জলমহাল ছেড়ে পালিয়ে যায়।,
অপরদিকে জলমহালে হত্যাকান্ড, লুপাট, অগ্নিসংযোগ মিশনে থাকা কয়েকজন পেশাদার দুবৃক্ত একটি এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাবার পথে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র সামনে থেকে ও একাধিক স্থানে অভিযানে নেমে ২৩ জনকে থানা পুলিশ আটক করেছে।
রাত সোয়া ১১টায় ওই ঘটনাটি নিশ্চিত করেন ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম গণমাধ্যমকে জানান, জলমহালটির ইজারা নিয়ে স্থানীয় দু’টি মৎস্যজীবী সমিতির দীর্ঘদিন ধরে দ্ব্ন্ধ চলছে। দুই মৎস্যজীবী সমিতিই খাজনা জমা দিয়ে রশিদ দেখিয়ে ওই জলমহালের দখল নিতে চাইলে জেলা প্রশাসন কাউকেই দখল বুঝিয়ে দেয়নি। এই অবস্থায় প্রতিপক্ষ মৎসজীবী সমিতির লোকজন অপর মৎসজীবী সমিতির স্থাপনায় হামলা করলে শ্যামা চরণ বর্মণ নামে এক জেলে খুন হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির বক্তব্য জানতে তার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন এ মুহুর্তে সুনামগঞ্জ অবস্থান করছি। আমরা এসব বিষয়ে কিছুই জানিনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •