• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শুন্য পদ পূরনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তত্ত্বাবধায়ক।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত October 15, 2026
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শুন্য পদ পূরনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তত্ত্বাবধায়ক।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার ব্যাবস্থা থাকলেও সাড়ে ৭’শ থেকে সাড়ে ৮’শ ৯’শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন৷ ধারণ ক্ষমতার ৩গুণ রোগীর ঔষধ ও খাবারের নিশ্চিত করতে হচ্ছে৷ প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। মাত্র ৫০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৫০ জন রোগী। চিকিৎসকের অনুমোদিত ৭৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের উপতত্ত্বাবধায়ক ডা. সুমন বণিক, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নিশাত তাসনিম সহ সুনামগঞ্জ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা৷ সভায় আরএমও জানান, শিশু ওয়ার্ডে ৩৫০ জন রোগী ছাড়াও হাম ওয়ার্ডে ১৫০, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৫০, নারী ওয়ার্ডে ১৬০, পুরুষ ওয়ার্ডে ১০০, প্রসূতি ওয়ার্ডে ৭০ এবং অন্যান্য ওয়ার্ডে ১১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ রোগী। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে সীমিত জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মেডিকেল অফিসারের ৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। জনবল ও কারিগরি সরঞ্জামের ঘাটতি থাকলেও সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এ হাসপাতালকে। তিনি জানান, নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে ১৯৩ জন কর্মরত, শূন্য রয়েছে ৭০টি পদ। মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ১৩৬টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৮৮টি। বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদও খালি রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে ওষুধ সরবরাহ, খাবার বিতরণসহ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং হাসপাতালের সেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।