সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদের হুইপ ও সিলেট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা আলহাজ জি কে গউছ বলেন আগামীতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন কমিটিতে যারা রাজপথে ছিলেন। জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে।
যাদের ফ্যাসিস্ট দের সাথে দহরম মহরম তাদের স্থান বিএনপিতে হবে না।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভায় জেলার ১৬টি ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় আগামী ৩ অক্টোবর সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং ১৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আলহাজ মো. জি কে গউছ এমপি।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) কলিম উদ্দিন আলক মিলনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট আব্দুল হক।
সভায় জেলার ১৬টি ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাদের কাছে নিজ নিজ ইউনিটের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠনের অগ্রগতি এবং সম্মেলনের সম্ভাব্য সময় জানতে চান।
সভায় জানানো হয়, ১৬টি ইউনিটের মধ্যে দিরাই, শাল্লা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা তাদের সব ওয়ার্ড কমিটি এবং আংশিক ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছে। অন্য ইউনিটগুলো এখনো ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধান অতিথি কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপিকে নির্ধারিত সময়ে সাংগঠনিক কাজ শেষ করায় অভিনন্দন জানান জি কে গউছ। আগামী ৩ অক্টোবর সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জেলার সম্মেলন কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে।
সভায় সংসদ সদস্য ও নেতারা বলেন, আগামী কমিটিতে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে যাদের দহরম-মহরম ছিল, তাদের কোনোভাবেই স্থান দেওয়া যাবে না। গত ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, কঠিন সময়ে দলের পাশে ছিলেন, নতুন কমিটিতে তাদের মূল্যায়ন করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ‘তেলবাজ’ ও সুবিধাবাদীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রত্যেকটি ইউনিটের অবস্থান জানতে পেরেছি এবং সম্মেলনের সময়ও নির্ধারণ করেছি। নিঃসন্দেহে সুনামগঞ্জ জেলায় বিএনপি অনেক শক্তিশালী। আপনারা গত নির্বাচনে এর প্রমাণ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের ফসল এই সরকার। এখন আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’
নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দল অনেক বড়। অনেকেই আসবেন। আসলেই সবাইকে সামনে নিয়ে আসবেন না। আগামী দিনে সেই নেতৃত্ব আপনারা বাছাই করবেন, যারা মাঠে ছিলেন, ময়দানে ছিলেন এবং কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না, তাদের সামনে নিয়ে আসবেন না।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ মো. জি কে গউছ বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা-যাওয়া নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি মহল ডিসেম্বরে আসা-যাওয়া বা ক্ষমতার রদবদল নিয়ে নানামুখী বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের এই গুজব মোকাবিলা করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কথা এবং কাজে মিল রাখার সংগঠনের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমরা যে যে কথা বলেছি, তা এখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে। অতীতে আমরা অনেক সময় নষ্ট করেছি, আমরা আর তা করতে চাই না। ১৬টি ইউনিট যে অঙ্গীকার করেছে, সে অনুযায়ী জেলা কমিটি সম্মেলন আয়োজন করবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জি কে গউছ বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করব, প্রতিযোগিতা থাকবে, তা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। আজ আমরা প্রাণ খুলে কথা বলেছি। দু-একজন ছালাকি করার চেষ্টা করেছেন। খেয়াল রাখবেন, এটা বিএনপি।’
তিনি বলেন, ‘যারা বিভিন্ন সময় বিএনপিকে ভোকাবানানোর চেষ্টা করেছে, তারা ভোকাবনে দল থেকে বেরিয়ে গেছে। বিএনপি একটি বড় ছায়াবৃক্ষ। আমরা সবাই সেই ছায়াতলে শান্তিতে, নিরাপদে থাকতে চাই।’
সভায় জেলার ১৬টি ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি গঠন, সম্মেলনের প্রস্তুতি এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।