সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে এই প্রতিপাদ্যে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকদ্রব্যনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সদর থানা পুলিশ, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। শনিবার বিকেলে মোহনপুর ট্রলারঘাটে মোহনপুর মাদকপ্রতিরোধ কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সভায় প্রধান বক্তা ওসি রতন শেখ এলাকার মাদক কারবারি রেজাউল করিমসহ তালিকাভূক্ত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দেন। অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন।
শিক্ষক রইসুজ্জমানের সঞ্চালনায় ও ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন সদর থানার ওসি রতন শেখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম।
অন্যদের বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা কাজি শামসুল হুদা সোহেল, সাংবাদিক শামস শামীম, সাবেক মেম্বার আজিজুর রহমান, উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রশিদ, সেক্রেটারি মো. সেলিম, মসিউর রহমান রাসেল, ইউপি সদস্য নূরুল আমিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, মাদক কারবারি এবং মাদকাসক্ত যারা আছে, তারা সমাজ এবং দেশের শত্রু। তারা নিজেদের লাভের আশায় নিজেকে ধ্বংস করছে,পরিবার, সমাজ, জাতি এবং দেশকে ধ্বংস করছে। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, এলাকায় মাদকের গডফাদার যারা আছে, তারা এলাকার অসহায় এবং গরীব নারী-পুরুষ এবং শিশু যারা আয়-উপার্জনহীন তাদেরকে ব্যবহার করে থাকে। তাদেরকে জিম্মি করে মাদক কারবার করে। তিনি বলেন,
ইতোমধ্যে মোহনপুর ইউনিয়নে মাদক কারবারি এবং মাদকাসক্তদের তালিকা পেয়েছি। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, থানা পুলিশ মিলে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করবো। এবং আসক্তদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করবো।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, মোহনপুরের মাদককারবারি রেজাউলসহ এলাকার অন্য মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, মাদক এবং অনলাইন জুয়া বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক প্রতিদিন আমরা শহরে অভিযান পরিচালনা করছি। যে কারণে শহর এলাকায় আগে যে মাদকের দাম ছিল, ২৫০ টাকা, সেটা এখন ১ হাজার টাকায়ও পাচ্ছে না। শহরের মাদক কারবারিরা এখন গ্রামের দিকে ঝুঁকছে। তাই সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই এলাকায় যারা মাদক কারবারি এবং মাদকাসক্ত আছে, আপনাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের নাম জেনেছি। এর মধ্যে রেজাউলের বিচার এই সমাবেশেই দাবি করেছেন গ্রামবাসী। সেসহ তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।