• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

রাঙামাটিতে লাগাতার ৬ দিনের ভারি বর্ষণে ৩শ৭১টি স্পটে পাহাড় ধ্বস/ ৪ উপজেলায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত August 8, 2023
রাঙামাটিতে লাগাতার ৬ দিনের ভারি বর্ষণে ৩শ৭১টি স্পটে পাহাড় ধ্বস/ ৪ উপজেলায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

 

|| মুহাম্মদ ইলিয়াস-৮ আগষ্ট, রাঙামাটি ||

রাঙামাটিতে টানা ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ৩ শ ৭১ টি ছোট বড় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িতে উজানের পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটছে আর নতুন নতুন এলাকা ও জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও ভূমি ধ্বসের আশংকায় তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যালয়সমূহে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ করেছে ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ৬ দিনের টানা ভারি বর্ষণে রাঙামাটি জেলা সদরসহ ১০ উপজেলার ৩ শ ৭১ স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বাঘাইছড়ির নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৮ হাজার ১শ ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে ২ হাজার ১ ৮৪ জন। মঙ্গলবার নতুন করে জেলা সদরে সিভিল সার্জন’র বাংলোর পিছনে পাহাড় ধ্বসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ১৭ পরিবারের ৬০ জনকে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে ৬ দিনে ১০ উপজেলায় বড়-ছোট ২
৩শ ৭১ টি স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে বিলাইছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি জোন সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয় সংলগ্ন ৩৮ পরিবার, কেংড়াছড়ি পাড়া কেন্দ্রে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একই উপজেলার কেংড়াছড়ি বাজার জামে মসজিদের পাশের কড়ই ও কৃষ্ণচূড়া গাছ নিয়ে বড় ধরনের পাহাড় ধ্বস নেমেছে।ভারত সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলার ঠেগা খুব্বাং মিনি স্টেডিয়াম ডুবে গেছে। উজানের পানির পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নিন্মাঞ্চল।

প্রতিদিন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নতুন নতুন এলাকা ও জনপদ প্লাবিত হচ্ছে। জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির নিন্নান্চলের লোকজনকে আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। ২শ ৩৪ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছে ১ হাজার ৭শ ২৭জন মানুষ। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২ হাজার ১শ ৮৪জন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সড়কের ২৮ টি স্পটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কমবেশি ৪শ টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪টি ব্রিজ কালভার্ট ও ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ৯ বাজার ডুবে গেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’র সহকারী পরিচালক নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমী আবহাওয়ার প্রভাব ও অতিবৃষ্টির কারণে যে সকল বিদ্যালয়সমূহে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং সম্ভাব্য ভূমি ধ্বসে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে সে সকল বিদ্যালয়সমূহের শ্রেণি কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এবং বর্ণিত বিষয়ে জরুরীভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো: মোশারফ হোসেন খান বলেন, প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় পাহাড় ধ্বস ও নিন্মান্চল প্লাবিত হচ্ছে। আমাদের পাশাপাশি পুলিশ, এলজিইডি, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক বিভাগ আলাদা আলাদা মনিটরিং করছে। সেনাবাহিনীও আমাদেরকে সাপোর্ট দিচ্ছে। আমরা দূর্গতদের নিরাপদ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।