• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

সুনামগঞ্জের সিএনজি ষ্টেশনে তালা মারার ঘটনার কারণ জানাতে সংবাদ সম্মেলন।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত September 25, 2026
সুনামগঞ্জের সিএনজি ষ্টেশনে তালা মারার ঘটনার কারণ জানাতে সংবাদ সম্মেলন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে অবস্থিত সিনথিয়া সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন স্টেশনে তালা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ইঞ্জিনিয়ার হোসাইন আহমদ জুয়েল। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

লিখিত বক্তব্যে হোসাইন আহমদ জুয়েল বলেন, তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সিনথিয়া সিএনজি স্টেশনে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্টেশনটির মালিক ব্যবসায়ী সজীব রঞ্জন দাশ ওরফে শল্টু।

 

জুয়েলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির বিপরীতে সরকারি গ্যাসের বড় অঙ্কের বিল বকেয়া ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মালিক সজীব রঞ্জন দাশ দেশের বাইরে চলে যান। এরপর ১৪ আগস্ট ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বকেয়া থাকার কারণে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ স্টেশনটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ নিয়ে স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়।

 

সাবেক এই ইঞ্জিনিয়ার বলেন, স্টেশন সচল রাখতে মালিকের অনুরোধে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। এসব অর্থ স্টেশনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো টাকা তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় কোনো কোনো পাওনাদারের কাছে মালিকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের চেক জামানত হিসেবে দেওয়া হয়। পরে সেসব চেক শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন পাওনাদারের কাছে নিজের ব্যাংক হিসাবের চেকও জামানত হিসেবে দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।

 

জুয়েলের অভিযোগ, স্টেশনের আয় থেকে পরিচালন ব্যয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ মেটানোর পর পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের মতো পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকত না। একই সঙ্গে মালিক স্টেশনের আয় থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ নিয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

 

তার ভাষ্য, পরবর্তীতে স্টেশনটি চালু রাখতে সজীব রঞ্জন দাশের অনুরোধে সুনামগঞ্জের একজন সুপরিচিত ব্যক্তি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েক দফায় মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগকারীকে স্টেশনের অর্জিত লাভের চার ভাগের তিন ভাগ দেওয়ার বিষয়ে মৌখিকভাবে চুক্তি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে স্টেশনের লাভের অর্থ বিনিয়োগকারী ও পাওনাদারদের পরিশোধ না করে মালিক বিভিন্ন সময়ে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ করেন জুয়েল।

 

তিনি আরও বলেন, পাওনাদার ও বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফেরত না পেয়ে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। বিষয়টি মালিককে জানালেও তিনি ঋণ পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেননি। পরে তিনি সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

 

জুয়েল জানান, চলতি বছরের জুনে স্টেশনের হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এরপরও পাওনাদারদের চাপ অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে সুনামগঞ্জ ছেড়ে যান। কিন্তু সেখানেও চাপ অব্যাহত থাকায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।

 

এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পাওনাদারদের ডেকে স্টেশনে তালা দিয়ে মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধ করেন বলে জানান জুয়েল। তার অনুরোধে পাওনাদারেরা স্টেশনে তালা দিয়ে চাবি সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করেন।

 

তিনি বলেন, পরদিন সকালে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে দেনাপাওনা বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে হোসাইন আহমদ জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন স্টেশনে কর্মরত থাকায় পুরো ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য সজীব রঞ্জন দাশের সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এ ছাড়া তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক এবং সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি ২০২৪ সালের পটপরিবর্তন এর পর তিনি কানাডায় স্বপরিবারে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে সিনথিয়া সিএনজি স্টেশনের মালিক সজীব রঞ্জন দাশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।