• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ ড্রেজার তান্ডবে এলাকাবাসীর নাভিঃশ্বাস চরমে।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত August 11, 2026
দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ ড্রেজার তান্ডবে এলাকাবাসীর নাভিঃশ্বাস চরমে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে দিন ও রাতে অবৈধ ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারার শর্তকে তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তুলছে। এতে নদীর দুই তীরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনের কারণে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও রাবারড্যামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক বসতভিটা। পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজারের বিকট শব্দে নদীপাড়ের মানুষ অতিষ্ঠ। এ নিয়ে নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন। তবে, ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

 

উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের পাশে খাসিয়ামারা নদীতে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। এই বালু তোলায় ইজারার শর্ত ভাঙা হচ্ছে। প্রশাসনকে দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলি। নদীর তলদেশ ও তীর ঘেঁষে বালু তোলায় নদীভাঙনে অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। নোয়াপাড়া গ্রামের পাশে রাবারড্যাম থাকায় সরাসরি নদীর ওই অংশে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নদীর একপাশ থেকে বালু তুলে তা পাইপের মাধ্যমে পাশে থাকা বাল্কহেডে ভর্তি করা হচ্ছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজিংয়ের শুরুতে ড্রেজারের পাশে ছোট ছোট বারকি নৌকা দিয়ে সামান্য কিছু বালু নদীতে ফেলে। পরবর্তীতে সেই বালু তোলার নাম করে নদীর তলদেশ থেকে কয়েকগুণ বেশি বালু তোলা হয়। দিনরাত চলা ড্রেজারগুলোর বিকট শব্দ স্থানীয়দের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশিদ খাসিয়ামারা নদী ইজারা নেওয়ার পর থেকেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ ড্রেজারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রভাবশালী এই ব্যক্তির ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অপদস্থ হতে হয়। এমনকি সাংবাদিক দের সাথে ও সে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে।

 

নদীপাড়ের মানুষ বলেন, ড্রেজারের বিকট শব্দে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ থেকে সব বয়সী মানুষ হারাচ্ছে শ্রবণশক্তি। স্থানীয়দের উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান স্থানীয়রা।

 

নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, নদীতে দিনরাত ৫০-৬০টি ড্রেজার চলে। শত শত নৌকা দ্রুত গতিতে চলে। একদিকে ঢেউ অন্যদিকে ড্রেজারের তান্ডব। এই দুই কারণে আমার বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে। যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বসতঘরটি। ইতোমধ্যে রান্না ঘর ভেঙে গেছে। টিউবওয়েলের পাকা অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েলও যেকোনো সময় নদীতে চলে যেতে পারে। আমরা চাই নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো রক্ষা করার জন্য ড্রেজার বন্ধ করা হোক।

 

খাসিয়ামারা নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোয় উদ্বিগ্ন পরিবেশ কর্মীরা। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী থেকে এসব অবৈধ ড্রেজার সরানো না হলে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

 

‘ড্রেজার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তারপরেও নদীতে ড্রেজার চলে কীভাবে, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এরসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। ড্রেজার বন্ধের পাশাপাশি কারা এগুলো চালানোয় সহায়তা করছেন- তার বের করার দাবি জানান পরিবেশকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ।’

 

এদিকে ইজারাদারের দাবি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতিতেই চালানো হচ্ছে ড্রেজার। রাবারড্যামের যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য ড্রেজারের মাধ্যমে বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে সাংবাদিক দের জানান ইজারাদার ও উপজেলার সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি রয়েছে। আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেই ড্রেজার চালাচ্ছি। রাবারড্যামের ক্ষতি এড়াতেই ড্রেজার চালানো হচ্ছে।’

 

 

দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়েছে। এগুলো দেখভাল তারাই করবে। যদি পুলিশের সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আমাদের বললে আমরা যাব । আমরা একাধিক বার গিয়ে দেখে এসেছি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি ) রাশিদুল ইসলাম বলেন ইউএনও স্যার ছুটিতে আছেন। আমরা খুব শীগ্রই অভিযান চালাবো। আইন অনুযায়ী ইজারার শর্ত মেনে চলতে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোহাইমিনুল হক বলেন আমরা ও অভিযোগ পেয়েছি খুব শীগ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ কে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে সে সুন্দর ভাবে কথা বলেননি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে আমরা একট চিঠি দেব এবং খুব শীগ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব । পরিবেশ অধিদপ্তর কে বলব মামলা দায়ের করার জন্য। মৌখিক অনুমতির ব্যাপার অস্বীকার করেন।