• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর মোঃ নিজাম উদ্দিনের খোলা চিঠি। 

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত June 2, 2026
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর মোঃ নিজাম উদ্দিনের খোলা চিঠি। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, শ্রদ্ধা সম্মান ভালোবাসা জানবেন। ঘটনাবহুল রাষ্ট্রের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ভাবনার জগৎটা আলোড়িত হয়, তাই বিএনপি তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে আপনার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ভালোবাসা থেকে আমার এই খোলা চিঠি। বলে নেওয়া ভালো আমি লেখক নই কেবলই রাজনীতির ছাত্র, আপনার একজন নগন্য কর্মী বিএনপিকে প্রচন্ড ভালোবাসি। এই ক্ষুদ্র লেখায় ভুল ত্রুটির জন্য শুরুতেই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কেমন আছেন জানতে চাইব না! জানতে চাই জুলাই বিপ্লবের পরে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী কেমন আছে?

 

ক্ষমতার চেয়ার দুর থেকে দেখে মনে হয় কত সুন্দর কত সম্মান গৌরব আনন্দের, যে বসে সে অনুভব করে এই চেয়ারে আছে আগুনের তপ্তশীখা। এই উপলব্ধি আপনাকে মহিমান্বিত করার কথা, কিন্তু বাস্তবে কি তাই হচ্ছে? নিদারুণ কষ্ট সয়েও থাকতে হয় হাসি মুখে, কারণ আপনি জনগণের প্রধানমন্ত্রী, একজন প্রধানমন্ত্রীকে কখনো কোন ভাবেই হতাশগ্রস্ত মানায় না। দেশের মাটি ও প্রান্তিক জনপদের সাধারণ মানুষের সাথে আপনার মিশে যাওয়া সম্মোহনী হৃদয় স্পর্শ আবেগ দরদ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আপনার সরকারের দায়িত্ব পালন সবে মাত্র ১০০দিন অতিক্রম করেছে, আপনার অতি সাধারণের বেশে চলাফেরা পরিমার্জিত কথাবার্তা আচরণে প্রতিদিনই থাকছে অবিশ্বাস্য চমক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যত্রতত্র ছুটে চলা মানুষকে বুকে কাছে টেনে নেওয়ার দৃশ্য মানুষকে পুলকিত অভিবুত করে, মানুষের প্রত্যাশার চেয়েও নিজেকে উজাড় করে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনার অনেক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত, তবুও নিন্দুকের দেওয়া কষ্ট অপমান চাপা দিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন, তাই হওয়া উচিত।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিশু ধর্ষন নারী ধর্ষন লোমহর্ষক হত্যাকান্ড প্রকট আকার ধারণ করছে, শহর নগর গ্রাম পাড়া মহল্লায় প্রতিটি মা বাবা আজ আতঙ্কিত। শিশু আছিয়া থেকে ফাহিমা রামিশা থেকে সায়মা, তাহাতি সহ আরো অগণিত শিশু নারী ধর্ষণ হত্যাকান্ড সমগ্র জাতিকে লজ্জিত বিক্ষুব্ধ করেছে। থানা প্রশাসন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় উপাসনালয় অনেক জায়গায় এমনকি নিজের বাসায় নারী শিশু আজ কেন নিরাপদ নয়? এসব জগণ্য ঘটনা কেন হচ্ছে কারা করছে? এমন অনিরাপদ বাংলাদেশ কেউ চায়নি, কিন্তু অনেকেই নিরাপদ বেঁচে থাকা নিয়ে সংকিত। দেশকে অশান্ত করতে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা বিরামহীন ভাবে চলছে, চলতে থাকবে। এই জগন্য হত্যাকান্ড ধর্ষকদের পিছনে নিশ্চয়ই কোটি কোটি টাকা বা লোভনীয় এমন কিছু দিয়ে বা তাদেরকে কোন ভাবে বাধ্য করে এই নেক্কারজনক কাজটি বিশেষ কোন মহল করিয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইন্ডিয়া কখনো চাইবে না বাংলাদেশ ভালো পথে এগিয়ে যাক, কিংবা দেশের মানুষ আপনার নেতৃত্বে ভালো থাকুক। বাংলাদেশের লোমহর্ষক আলোচিত নিকৃষ্ট চরম নিন্দনীয় অনেক ঘটনার নেপথ্যের কারিগর হয়তো দেশি বিদেশি প্রভাবশালী কোন মহল। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ফিরে আসার হুঙ্কারের পর পরই শিশু নারী ধর্ষন, নিষ্ঠুর নির্মম হত্যাকাণ্ড আশঙ্কা জনক ভাবে বেড়ে চলেছে। শেখ হাসিনা ফিরে আসার জন্য এহেন কোন কাজ নেই যা সে নিজে এবং ইন্ডিয়া করতে পারে না!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কঠোর হওয়ার জায়গায় উদার হলে হবে না, যে কোন ধর্ষন আলোচিত হত্যাকান্ড ঘুষ দূর্নীতি চাঁদাবাজির বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। থানায় বিচার প্রার্থী নারী ধর্ষিত, সিলেট হাসপাতালে ডাক্তার কর্তৃক রোগী ধর্ষিত, ছিনতাইকারীর এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্য নিহত কিছু ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার অত্যাবশ্যক হয়ে যায়, হওয়া উচিত।

দূর্নীতি চাঁদাবাজির রাজনীতি চিরতরে নির্মুল করতে হবে, এই প্রশ্নে দেশের মানুষকে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ফ্যামেলি কার্ড, কৃষি কার্ড, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্বলিত কার্ড, খাল কাটা কর্মসুচী এসব নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তার চাইতেও অতি জনগুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। দ্রব্য মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা, মেধাবী শিক্ষিত যুবকদের চাকুরী নিশ্চিত করা, জনবান্ধন পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহ পরে ইরান আমেরিকার যুদ্ধ গভীর সংকটে বিরাজমান এশিয়ার অর্থনীতি এমন সময়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পরিকল্পিত ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। পেট্রোল পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল মোটরযান লাইনে দাঁড় করিয়ে কারা রেখেছিল! তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল? মিডিয়া সরকারের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা কেন পালন করেনি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যারা দেশকে অশান্ত করতে চায় মিডিয়ায় প্রপাগাণ্ডা ছড়ায় অবশ্যই চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে আইনি প্রদক্ষেপ নিতে হবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নেতৃত্বে অনেক চ্যালেঞ্জ দৃঢ়তার সহিত মোকাবিলা করতে হবে। শেখ হাসিনার নির্লজ্জ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় বাংলাদেশে ইন্ডিয়ার প্রভাব যথেষ্ট খর্ব হয়েছে, এই অপমানে আপনার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ বা দূর্বল করতে ইন্ডিয়া, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ, গভীর ষড়যন্ত্র করছে, নিশ্চয়ই করবে! আপনার সরকারকে বিব্রত ব্যর্থ করে ক্ষমতা গ্রহণের স্বাধ জেগেছে জামায়াতে ইসলামী এনসিপির।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নেতৃত্ব সুদৃঢ় প্রশংসিত হলে শেখ হাসিনা ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা কোন কালেই হবে না, জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতা লাভের স্বপ্ন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হতে বাধ্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা আপনার সামনে যেভাবে দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে বক্তব্য রেখেছে, সে একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কোন ভাবেই এই তোষামোদি বক্তব্য আপনার সরকারের জন্য কল্যাণকর নয়।

 

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী রাশেদ প্রধান ফুয়াদের মতো অনেক বেয়াদব প্রতিদিন আপনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে, সরকারের ভালো কাজ উদ্যোগের অহেতুক সমালোচনা করছে, আপনি এবং সরকার বিএনপি কেন এতো নির্বিকার? জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজেদের ছাড়া কখনো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভালো চায়নি, তারা কেন আপনার বা আপনার সরকারের ভালো চাইবে? আপনার ভালো চাইলে তারা ইহ জনমে কোন কালেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ পাবে না। তবে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন জুলাই বিপ্লবের পরে সারা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের কোন নেতার উপরে একটি মামলাও কোথাও দায়ের করেনি। বরং অতি সুকৌশলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে তারা নিরবে অনেক ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, অর্থনৈতিক ভাবে তাদের নেতাকর্মী লাভবান এবং শক্তিশালী হয়েছে। ফলশ্রুতিতে জাতীয় নির্বাচনে তারা অবিশ্বাস্য ভাবে ভোটের হিসেবে চমক দেখিয়েছে। নিশ্চয়ই দলগতভাবে আমাদেরও অনেক ভুল অনৈক্য ছিল, সেই সুযোগটা তারা বেশ ভালো ভাবে কাজে লাগিয়েছে। এরা তাদের প্রয়োজনে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছাড়াতে পারে অনেক দল ব্যক্তির সাথে সহজে আপনও হতে পারে, বেঈমানী করতেও বেশি সময় লাগে না তাদের। এদেরকে বিশ্বাস করা মানে নিজেদের ক্ষতি করা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেশ কিছু বেয়াদবের বেয়াদবি বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী দেশের মানুষ মেনে নিতে পারছে না, এরাই বলেছে টিনের চালে কাউয়া তারেক রহমান সা উ য়া, এরাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সামানা সামনি কোন কারণ অজুহাত ছাড়া প্রকাশ্যে ভূয়া ভূয়া বলে শ্লোগান দিচ্ছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে খুব কষ্ট থেকে বলছি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দলের সাংগঠনিক কাজে বেশ স্থবিরতা দল সরকারে আসার পরে বিএনপি অতিমাত্রায় দূর্বল হচ্ছে, যে কারণে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বাভাবিক চলাফেরায় আপনি যতটা সম্মান পাওয়ার কথা ততটা পাননি, পাচ্ছেন না। আপনার নেতৃত্বকে প্রতিদিন কিছু বেয়াদব চ্যালেঞ্জ করছে অপমান করছে, বিএনপি নেতাকর্মী কেন দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারছে না? আমি যতটুকু বুঝি এই বেয়াদবদের বিরুদ্ধে যারাই দাঁত ভাঙা জবাব দিবে হামলা করবে মামলা করবে, অনেকের ভয় তারা দল থেকে বহিষ্কার হবে। ধান্ধাবাজ চান্দাবাজদের দাপটে ত্যাগীরা নিরব হয়ে যাচ্ছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে সম্মান সমীহ করলে যে কেউ অপমানজনক বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বাজে মন্তব্য করতো না, কিংবা যে কেউ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে ভয় পেলেও কোন ভাবে নোংরা শব্দ মন্তব্য করার সাহস পেত না।

যারা আপনাকে বা আপনার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে, এরা আওয়ামী লীগ হউক, জামায়াতে ইসলামী এনসিপির নেতা হউক কিংবা জন্মসূত্রে বেয়াদব হউক, এরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে সম্মানও করছে না ভয়ও পাচ্ছে না। অনন্ত একটা জায়গা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে, হয় আপনার ভালো কাজ দেখে সবাই সম্মান করবে নতুবা সে যে দল মতের নেতা বা বেয়াদব হউক আপনার ক্ষমতাকে ভয় পেতে হবে। এই দুইটার একটা যদি নিশ্চিত করতে না পারেন তাহলে বেয়াদবের সংখ্যা এমন ভাবে বিস্তৃত হবে, বহুমুখী সমস্যা মুকাবিলা করতে একসময় সত্যি আপনার সরকার চরম ভাবে ব্যর্থ হবে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আপনাকে অনেক দুরে টেলে দিতে পারে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার মন্ত্রী পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্য নিয়ে আরো কত কিছু লিখতে চাইছিলাম। লিখতে চাইছিলাম বিএনপির মাঠ পর্যায়ের বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাগ ক্ষোভ কষ্ট নিয়ে। দীর্ঘ লেখার মাধ্যমে আপনার বা পাঠকের ধৈর্যচুত্যি ঘটাতে চাই না। ভালোবাসা ভালো লাগা থেকে মাঝে মধ্যে এভাবেই খোলা চিঠি লিখবো ইনশাআল্লাহ।

 

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সবার কথা মন দিয়ে শোনেন, ভালোকে পুরস্কৃত করেন, অন্যের সমালোচনা একদম পছন্দ করে না, এই অনন্য গুণাবলির জন্য আজ আপনি সর্ব মহলে প্রশংসিত। আপনার ধৈর্য সহনশীলতার জন্য নিজেকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, তবে মনে রাখতে হবে অতি উদার মানসিকতার জন্য দেশের মানুষ হারিয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিদিন মৃত্যুর ভয়কে জয় করে এগিয়ে চলেছেন, প্লিজ আপনার সম্মান এবং দেশ রক্ষার জন্য আরেকটু সতর্ক থাকুন সাহসী হউন। আপনার জন্য নিরন্তর শুভ কামনা।

 

ইতি,

মোঃ নিজাম উদ্দিন

বিএনপির তৃণমূলের একজন নগন্য কর্মী।

সাবেক চেয়ারম্যান,উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ।

সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।