• ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

লন্ডনে শেখ কামাল স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২১
লন্ডনে শেখ কামাল স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

বিবিএন ডেস্ক:  বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের রূপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে ‘উদ্দীপ্ত তারুণ্যের অগ্রদূত’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে। এ আলোকচিত্র উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

 

শুক্রবার (৬ আগস্ট) লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ স্মারক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, শেখ কামালের সহপাঠী ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সহযোদ্ধারা বাঙালি জাতির অদম্য তারুণ্যের প্রতীক শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নে শহীদ শেখ কামালের অনন্য অবদান স্মরণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ক্রীড়াঙ্গনে শেখ কামালের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শেখ কামালের নামে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং তার ওপর তথ্যচিত্র ও বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ।

 

তিনি বলেন, আজ বিশেষ করে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশ যে মর্যাদা অর্জন করে অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে, তার মূল ভিত্তি শেখ কামালই তৈরি করেছেন।

 

স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল বাঙালি জাতির জীবনে এক মৃত্যুঞ্জয়ী তারুণ্যের দূত। ক্ষণজন্মা এ চির তরুণের জীবনাদর্শ বর্তমান প্রজন্মের যুব ও তরুণ সমাজের জন্য সার্বজনীন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, তার বর্ণাঢ্য জীবন এবং সুবিস্তৃত কর্ম ও অপরিসীম অবদান সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে বিশেষতঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণদের অবহিত ও আরো সচেতন করার জন্য লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে, যা ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

স্মারক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রথিতযশা সাংবাদিক ও মহান একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি শেখ কামালকে ‘ম্যান অব দ্য হাউজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার জেষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামাল ছিলেন বঙ্গমাতার প্রধান অবলম্বন। তিনি পরিবারের অন্যতম অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে সবার দেখা-শোনা করতেন। জাতির পিতার সন্তান হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না, বরং তার চলাফেরা ছিল একজন সাধারণ মানুষের মতো।

 

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শেখ কামালের কয়েকজন সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আবাহনী ক্রীড়াচক্র ও মুক্তিযুদ্ধের সতীর্থরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শেখ কামালের অসাধারণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তারা একজন মননশীল ও জনদরদি মানুষ হিসেবে শেখ কামাল কীভাবে সব সময় বস্তিবাসী, রিকশাচালক, গরিব ছাত্রছাত্রীসহ অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই আবেগঘন স্মৃতি রোমত্থন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সাংসদ হারুনুর রশিদ এবং শেখ কামালের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. হাবিবুল হক খন্দকার, তৌরিদ হোসেন বাদল ও ড. মেহরাজ জাহান।

 

হারুনুর রশিদ শেখ কামালকে বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের রূপকার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তরুণ সমাজকে সংগঠিত করে তিনি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় উদ্যোগী হন এবং ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আবাহনী ক্রীড়াচক্র, যা আজকের আবাহনী লিমিটেড।

 

যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সিনিয়র ব্যক্তিত্ব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ কামালের সতীর্থ মো. আবদুর রাকীব বক্তব্য দেন। তারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে শহীদ শেখ কামালের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এরপর শেখ কামালের জীবনের ওপর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

স্মারক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ তরুণ প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করে শেখ কামালের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •