• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হাতি পোষ মানানো দেখতে আনন্দদায়ক হলেও অমানবিক

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২১
হাতি পোষ মানানো দেখতে আনন্দদায়ক হলেও অমানবিক

মঞ্জুরে আলম লাল, জুড়ী (মৌলভীবাজার) বন্যপ্রাণী হাতি। আকৃতিগত দিক থেকে প্রাণীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। বন্য (জংলি) হাতিকে মানুষ ভয় পায়, কেননা এগুলো পাহাড় থেকে বস্তিতে নেমে এলে মানুষের জানমালের ক্ষতি করে।

তবে এই বন্যপ্রাণী হাতিকেই মানুষ (মাহুত) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোষ মানিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে টাকা রোজগার করেন। কাজ করার সামর্থ্য অনুযায়ী হাতির মূল্য ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা হয়ে থাকে। আবার হাতির দাঁতও লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হয়।

পালিত হাতির বাচ্চা জন্মের আড়াই বছর থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাকে পোষ মানাতে হয়। বেশ ব্যয়সাপেক্ষ এ কর্মযজ্ঞটি চলে তিন মাসেরও বেশি সময়। আর হাতির পোষ মানানো দেখতে আনন্দদায়ক হলেও পন্থাটি খুবই অমানবিক এবং বাচ্চার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি হাতি শাবককে পোষ মানানোর কাজ (স্থানীয় ভাষায় হাঁদানি) চলছে।

সরেজমিন সোমবার উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পুটিছড়া এলাকায় দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ লেমনের চাচা আজির উদ্দিনের মালিকানাধীন হাতির বাচ্চাকে পোষ মানানো হচ্ছে। এ কর্মযজ্ঞ দেখতে সেখানে হাজার হাজার আবালবৃদ্ধবনিতা ভিড় করেন।

হাতি হাঁদানো কাজের কয়েকটি ধাপের প্রথম ধাপ শুরু হয় সোমবার দুপুর ২টা থেকে। প্রশিক্ষিত ছয়টি হাতি নিয়ে মাস্টারের (প্রশিক্ষক) নেতৃত্বে চারজন সহকারী প্রশিক্ষক, দুইজন ফাঁন্দি ও আটজন সহকারীসহ ১৫ জন মাহুতের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কাজ শুরু হয়।

যথাযথ নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত হাতিগুলো দিয়ে বাচ্চাটিকে বেষ্টন করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। তখন অন্য দুটি হাতি দিয়ে মা হাতিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া হয়। বাচ্চাটিকে বাঁধার কৌশলটাও ভিন্ন।

মা হাতি সংযত থাকাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বাচ্চাটিকে বাঁধা পর্যন্ত ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এ কাজটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আর এর মধ্য দিয়েই হাতি হাঁদানোর প্রথম দিনের মূল কাজ শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিন বাচ্চাকে ছেড়ে প্রশিক্ষিত দুটি হাতি সহযোগে কোনো এক ছড়ায় নিয়ে গোসল করানোসহ ৪-৫ ঘণ্টা ঘুরিয়ে আবার নির্ধারিত স্থানে এনে বেঁধে রাখা হয়। এভাবে চলবে তিন মাস। এ সময়ে বাচ্চার পাগুলো খাল পড়ে ঘা হয়, ঘা থেকে পচন ধরে। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা দেয়া হয় নিয়মিত।

দৃশ্যটি দেখতে মানুষের জন্য আনন্দদায়ক হলেও পন্থাটি খুবই অমানবিক এবং বাচ্চার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাচ্চাকে বিভিন্ন সংকেত বুঝিয়ে দেয়া হয়, শিখিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন কাজের কৌশল। প্রশিক্ষণ শেষ হলেই হাতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ। প্রশিক্ষিত হাতি দিয়েই গাছ টানা, পড়ে যাওয়া গাড়ি তোলা, অতিথিকে অভিবাদন জানানো, সার্কাসে খেলা দেখানোসহ বিভিন্ন কাজ করানো হয়।

মাহুত আহমদ আলী পংকী জানান, মাস্টার (প্রশিক্ষক) মাসুক মিয়ার নেতৃত্বে সহকারী প্রশিক্ষক রহমত আলী, ইছমাইল আলী, ইয়াছিন আলী, ফুল মিয়া, ফাঁন্দি আহমদ আলী পংকী, সাইদুল ইসলাম এবং সহকারী হিসেবে রিয়াজ মিয়া, লেবু মিয়া, রেনু মিয়া, লিটন মুন্ডা, আব্দুল জলিল, সুভেন উরাং, লাল খড়িয়া ও জুবের আহমদ এই প্রশিক্ষণ কাজে অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে ২-৩ লাখ টাকা খরচ হবে।

আলাপকালে মাস্টার (প্রশিক্ষক) মাসুক মিয়া বলেন, তিন মাস পরেও প্রশিক্ষণের আরও কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। তা সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই হাতি দিয়ে যে কোনো কাজ করানো যাবে।(যুগান্তর)

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •