• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জে ভেজা ধানে চারা গজিয়েছে

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৬
সুনামগঞ্জে ভেজা ধানে চারা গজিয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের কষ্টার্জিত ফলানো সোনালী ফসল ভেজা থাকতে থাকতে ধানে চারা গজিয়েছে। এখন এই ধান খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

কৃষকরা শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে পানিতে নেমে ধান কেটে খলায় এনে স্তূপ করে রাখলেও লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে তা শুকানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কয়েকদিন ধরে স্তূপ করে রাখার ফলে ধানের ভেতরে তাপ সৃষ্টি হচ্ছে, আর তাতেই অঙ্কুর গজিয়ে চারার মতো হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধান।

শনির হাওর পাড়ের কৃষক আলমগীর কবির জানান, তার খলায় রাখা প্রায় ৩০ মণ ধান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি স্তূপেই অঙ্কুর গজানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তার ভাতিজা জানান, প্রায় ৫০ বস্তা ধান শেষ পর্যন্ত নদীর পানিতে ফেলে দিতে হয়েছে।

একই অবস্থা তরং গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান আখঞ্জীর। তিনি বলেন, “আমাদের প্রায় ৫০ মণ ধান তিনদিন ধরে খলায় পড়ে আছে। যদি আগামীকালও রোদ না ওঠে, তাহলে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে নদীতে ফেলতে হবে। এতে আমাদের টাকা গেল, শ্রমও গেল।

কৃষকদের মতে, একদিকে বন্যার পূর্বাভাস, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট—এর মধ্যে চড়া দামে শ্রমিক নিয়োগ করে দ্রুত ধান কেটে আনতে হয়েছে। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে এখন সেই ধানই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে হতাশায় ভুগছেন উপজেলার অসংখ্য কৃষক পরিবার।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি এ উপজেলায় প্রায় ১ লক্ষ মন ধানে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তাহিরপুর উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬৬% পাকাঁ কর্তন করা হয়েছে।

 

এবিষয়ে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে অনেক খলা ভেজা থাকাতে ধান শুকানো বিঘ্ন হচ্ছে। ফলে কৃষকরা ধান ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধান স্তুপ করে রাখায় অনেক জায়গায় অঙ্কুর গজিয়েছে। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এই মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এসব ধান সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা নিরাপদ স্থানে পরিষ্কার জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে নিয়মিত নাড়াচাড়া করলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়ন দরিয়াবাজ গ্রামের কৃষক মঙ্গল মিয়া, ও একই কথা বলেছেন। একই চিত্র সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকদের। কষ্ট স্বীকার করে বজ্রপাতের ভয় পেরিয়ে কোমর পানি ও গলা পানিতে নেমে ধান কাটার পর ও শুধুমাত্র শুকানোর অভাবে ধান নষ্ট হয়ে কৃষকদের চরম সর্বনাশ ডেকে আনছে। তাদের আর্তনাদ সারা বছরের জন্য ফলানো ফসল হারিয়ে বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে কিভাবে চলবেন। কৃষক জয়নুদ্দিন বলেন এবার আমাদের না খেয়ে মরা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছিনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান কি পরিমাণ ধান চারা গজিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আইডিয়া নেই। তবে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান যেন ঢেকে না রাখেন। আমাদের ১০ টি ড্রায়ার মেশিন অর্থাত ধান শুকানোর যন্ত্র জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে। এ গুলো একটি প্রকল্প থেকে পেয়েছিলাম। যদি পরিমাণে কম। তিনি আরও জানান যদি অটো রাইস মিল মালিক গণ কাচাঁ ধান কেনেন তাহলে ও কৃষকরা কম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন আশাকরি। আমি জেলা প্রশাসক কে জানিয়েছি উনি অটোমেটিক রাইস মিল মালিক দের সাথে কথা বলেছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতি মন্ত্রীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করেছেন কি করা যায়। তিনি আরও জানান ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে ধান শুকানোর জন্য ইউএনও দের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।