ফেইসবুকে সক্রিয় ভাবে জড়িত বহু বছর থেকে, নিজেস্ব বিচার বুদ্ধি যোগ্যতা দিয়ে মাঝে মধ্যে একটু আধটু লেখালেখি করি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত প্রায় ৩৪ বছর থেকে, দায়িত্বও যথেষ্ট পালন করেছি।
অতীতের মতো আজও অপ্রিয় কিছু সত্য কথা বলতে চাই, দলের বা বিরেধী মতের অনেকের কাছে ভালো না-ও লাগতে পারে। কারো যদি ভালো না লাগে বিশ্রী শব্দ দিয়ে আমাকে আঘাত না করে আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড লিষ্ট থেকে আমাকে আনফ্রেন্ড করতে পারেন। যাদের ভালো লাগে তার আমাকে সমর্থন দিয়ে যুক্ত থাকুন।
কাউকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ দেওয়া বা উদ্দেশ্য মুলক আঘাত করা আমার পারিবারিক বা একাডেমিক শিক্ষা নয়। সর্বোচ্ছ ভদ্রতা শালীনতা বঝায় রেখেই দল বা দেশের জন্য নিজের চিন্তা প্রকাশ করি।
প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো রাজনীতির প্রতি এখন তেমন একটা আগ্রহ নেই, দেশ এবং দলের প্রতি ভালোবাসা বিলিন হবার নয়।
আওয়ামী লীগ একটানা প্রায় ১৬/১৭বছর ক্ষমতায় ছিল, যদিও মানুষের ভোটের অধিকার বাক স্বাধীনতা তারা হরণ করেছিল, তবুও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এতো নোংরা ছিল না, আজ যতটা নোংরা কলুষিত। শেখ হাসিনা যদিও নির্লজ্জ অপমানিত হয়ে ক্ষমতা হারিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এটা যতটা না দেশের মানুষের রাগ ক্ষোভ ঘৃণা থেকে হয়েছে তার চাইতে বড় বিষয় ছিল প্রকৃতির নিজস্ব বিচার। লক্ষ লক্ষ আঘাত প্রাপ্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিরবে অশ্রু বিষর্জন দিয়ে আল্লাহর কাছে শেখ হাসিনার বিচার চেয়েছিল। আল্লাহ যদি দুনিয়াতে কি বিচার না দেখান তাহলে অদৃশ্য আল্লাহর উপর কেন মানুষ বিশ্বাস রাখবে?
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরদিন থেকে বিগত ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচন পর্যন্ত বা এখনও বিএনপির নেতাকর্মী যতটা অন্যায় বা অপকর্ম করেছে তার চাইতেও শত শত গুণ বেশি বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, এই অপপ্রচার করা করছে? তাদের রাজনীতি বা উদ্দেশ্য কি মহৎ?
শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ড বিএনপি সরকারের জন্য অনেক বড় কঠিন সংকেত। একবার ভাবুন তো আজকে যদি ওসমান হাদী হত্যা কান্ডের শিকার হতো, জামায়াত এনসিপি রাজপথে কেমন আচরণ করতো? ওসমান হাদীর মতো অন্য আলোচিত কারো হত্যাকান্ড বাংলাদেশে যে কোন সময় ঘটার মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
একবার ভাবুন তো বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র দুই আড়াই মাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এমপিদের কে যে ভাবে নেক্কারজনক বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইস চরিত্র নষ্ট করে লক্ষ লক্ষ ফেইসবুক আইডি থেকে বিদ্বেষ ছাড়ানো হচ্ছে। এমন নোংরা বিশ্রী ভাষায় গালাগালি আঘাত শেখ হাসিনাকে কেউ কি করার সাহস ছিল? নিশ্চয়ই না।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আর নোংরা ভাষায় বেয়াদবি অপপ্রচার করা এক জিনিস নয়।
আজকে ব্যারিষ্টার ফুয়াদ, সার্জিস, নাসির উদ্দীন পাঠুয়ারী, রাশেদ প্রধান সহ আরো অনেকেই যে ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে বা সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মানহানিকর কাজে লিপ্ত এমন অপতৎপরতা জামাত এনসিপি চালিয়ে যাচ্ছে,এবং দলগতভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।
যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করে বক্তব্য রাখছেন এদের কথা কাজে যারা তালি দিচ্ছেন তাদের দুইটা উদ্দেশ্য আছে।
এক। বেয়াদব অভদ্র নেতাকর্মীকে দিয়ে সরকারকে একদিকে নাজেহাল করে কোনঠাসা করে চাপে রাখা, উত্তেজিত করা।
দুই, ধরুন এই বেয়াদব অভদ্র মানুষটিকে দিয়ে এমন কিছু ব্যক্তিকে টার্গেট করে আঘাত করা, যাতে করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে সেই বেয়াদবের উপর হামলা করে হত্যাকান্ডের শিকারে পরিনত করা বা বিএনপির বাহিরে অন্য কোন মহল থেকে এমন হত্যাকান্ড সংঘটিত করা, এতে সরকার হঠানোর আন্দোলনের একটা প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাওয়া।
অর্থাৎ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বেয়াদব লালন পালন করে সরকারকে চাপে অস্থির করে অসফল করা এটাও লাভ, কোন মহল কতৃক সেই বেয়াদব হত্যাকান্ডের শিকার হলেও লাভ। বেয়াদব যাদের আছে তাদের দুই দিকেই লাভ।
ভাবুন তো রাশেদ প্রধান, নাসির উদ্দীন পাটুয়ারী যে ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করে কথা বলছে তারা আজকে দেশবাসীর কাছে রাতারাতি যেমনি পরিচিত পেয়েছে। তেমনি বিএনপির নেতাকর্মী সহ দেশের সাধারণ জনগণ এদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ।
বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র দুই আড়াই মাস বিএনপি না পারছে খুব কঠিন হতে, না পারছে বিরোধী শিবিরের বা বেয়াদবদের আচরণ মেনে নিতে। অন্য দিকে বিশ্ব পরিস্থিতি উত্তপ্ত, অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক নাজুক।
তবে বিশ্বাস করি বেয়াদবদের এমন ঘৃন্য আচরণ সরকার বা দেশের মানুষ সহ্য করবে না। বেয়াদব গুপ্তরা জনগণের প্রতিরোধে সময়ের স্রোতে একদিন ঠিকই হারিয়ে যাবে।
লেখক: মোঃ নিজাম উদ্দিন
সাবেক চেয়ারম্যান
উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।