সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে উড়াল সড়কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ ও ধর্ম পাশা উপজেলার সংযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের কাংঙ্খিত এই সড়কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের ( জামালগঞ্জ,ধর্ম পাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা)
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এরই মধ্য দিয়ে হাওর বাসীর নতুন দিগন্তের সুচনা হলো। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে এখনও ধর্ম পাশা,মধ্যনগর, জামালগঞ্জের কিছু অংশের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে অথবা মটর সাইকেল সহ অন্যান্য বাহনে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাতায়াতই একমাত্র ভরসা ছিল। ঐ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরেই দাবী ছিল হাওরের উপর দিয়ে যোগাযোগ স্থাপিত হলে মানুষের দুর্ভোগের লাঘব হবে। সেই সাথে কৃষি,মৎস্য ও পর্যটন সহ নানা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলার কুকড়াপশী গ্রামের সামনে ‘জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সড়কটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের অংশ জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়ক। হাওর এলাকা সুনামগঞ্জে পুরো এই প্রকল্পে ব্যয় হবে তিন হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। মূল সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে ১০. ৮১ কিলোমিটার উড়াল সড়ক। জামালগঞ্জের সাচনা-কাজীরগাঁও, ধর্মপাশার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার, আলেকদিয়া হয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা পর্যন্ত যাবে এই সড়ক।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আয়োজনে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক। জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উড়াল সড়ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস আহমদ, সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক ও ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মুতালিব খান।
জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন এতে আমাদের খুব উপকার হবে। ধর্ম পাশা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল্লাহ জানান এটি বাস্তবায়ন হলে ঐ এলাকার চিত্র বদলে যাবে। জেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দা অমৃত জোতি তালুকদার বলেন আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা এক দ্বীপের মধ্যে বসবাস করে আসছিলাম।