• ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বনাথে কৃষক নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ড: ১৮দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামী

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মে ১৪, ২০২২
বিশ্বনাথে কৃষক নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ড: ১৮দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষক নুরুল ইসলাম (৪৮) হত্যাকান্ডের ১৮দিন অতিবাহিত হলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারছেনা পুলিশ। আসামীরা এলাকায় দেদারছে ঘুরাঘুরি করলে রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় বাদির পরিবারের লোকজনরা ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছে। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বেশ উঠে পড়ে লেগে আছে। নুরুল ইসলাম উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের বশিরপুর পাঠানগাঁও গ্রামের মৃত জহুর আলীর ছেলে।

জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের পাঠানগাঁও ও তালুকজগৎ জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে পঞ্চায়েত কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে শফিক আলী (৫০) মসজিদের উন্নয়নের জন্য দুইশত টাকা দান করেন। কিন্তু মসজিদে এ টাকা দান করায় বিরুপ মন্তব্য করেন গ্রামের মৃত সোনাফর আলীর ছেলে কবির হোসেন সরকার (৫০)। এ নিয়ে কবির হোসেন সরকার, তার চাচাতো ভাই মৃত চেরাগ আলীর ছেলে ইলিয়াছ আলী (৪২), মোবারক আলী (৪৭) পক্ষের লোকজনের সঙ্গে শফিক আলীর বাকবিতন্ডা হয়। পরে কবির হোসেন সরকার পক্ষ মসজিদ ত্যাগ করে হামলার প্রস্তুতি নেয়। পঞ্চায়েত কমিটি শফিক পক্ষের লোকজনকে মসজিদে নিরাপদে রাখে। কিন্তু প্রায় আড়াই ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শফিক আলী পক্ষের লোকজন মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সম্মুখে রাস্তায় কবির হোসেন সরকার, ইলিয়াছ আলী, মোবারক আলী, সূরুজ আলীরা সংঘবদ্ধ ভাবে দেশিও অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শফিক আলীসহ তার আত্মীয়-স্বজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় শফিক আলী (৫০), তার আপন ছোট ভাই ফিরুজ আহমদ (৪৫), আছমত আলী (৩৮), ফরিদ আলী (৪০), চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম (৪৮), ভাতিজা আয়না মিয়া (৩৩) ও আখতার হোসেন (২৭), নাতি লিটন মিয়া (২২) গুরুতর আহত হয়। ওইদিন তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শফিক আলী বাদি হয়ে গত ২৩ এপ্রিল বিশ্বনাথ থানায় কবির হোসেন সরকারকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের নামে একটি মামলা (নং-১৫) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী কবির হোসেন সরকারকে (৫০) গ্রেফতার করে। মামলার অন্য আসামী মৃত চেরাগ আলীর ছেলে ইলিয়াছ আলী (৪২) ও মোবারক আলী (৪৭), মকবুল আলীর ছেলে সূরুজ আলী (৪০) ও আবদুল কাইয়ুম সানসির আলী (৩০), চেরাগ আলীর ছেলে আশিক আলী (৪০), মদরিছ আলীর ছেলে চমক আলী (৩৯), তবারক আলী (৪৩) ও আকবর আলী (৩১), মোবারক আলীর ছেলে
ছদরুল (২২), কবির হোসেন সরকারের ছেলে কাউছার (২১) ও ইফতেকার (২০), মোবারক আলীর ছেলে মেহের উদ্দিন (২৪), ইলিয়াছ আলীর ছেলে খাইরুল (২২)সহ ৮জন অজ্ঞাতনামা আসামীর মধ্যে কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত ২৮ এপ্রিল সকালে মারা যান শফিক আলীর চাচাতো ভাই গুরুতর আহত নুরুল ইসলাম (৫০)। পরদিন ২৯ এপ্রিল ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। হামলার ঘটনার পুলিশ একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও নুরুল ইসলাম মৃত্যুর পর কোন আসামী এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে বাদি ও তার স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটছে। সকল সন্ত্রাসী খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি চায় নিহতের পরিবার।

এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান বলেন, ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় ৩০২ ধারা সংযুক্তির জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।