• ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বাধেঁ–বাধেঁ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ইউএনও মুনতাসির হাসান

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২২
বাধেঁ–বাধেঁ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ইউএনও মুনতাসির হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যারা লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। এমনই একজন সরকারি কর্মকতর্তা হচ্ছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান পলাশ। তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। ধর্মপাশা উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরালসভাবে কাজ করছেন তিনি।

সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি পরিপূর্ণ হয়ে ঢলের পানির চাপে উপজেলার কয়েকটি ফসল রক্ষা বাঁধ ফাটল ধরে ধসে পড়ে যায়। এতে তিনি এ উপজেলার একমাত্র বোর ফসল রক্ষার স্বার্থে সরকার কর্তৃক দেওয়া বাসভবন ছেড়ে নির্ঘুমে রাত কাটাচ্ছেন হাওরে। কখনো কৃষকদের কাগজের চাউনি দিয়ে তৈরী অস্থায়ী কুড়ের ঘরে আবার কখনো বা নৌকায়। এভাবেই প্রতিটি ঝুকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসল রক্ষা বাঁধগুলো পূর্ণ মেরামত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কখনো নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে বাঁশ বস্তা ক্রয় করে ঝুকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত কাজে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য নিজেই কাজে লেগে যেতেও দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগণ ও কৃষকদের মাঝে আস্থার জায়গা করে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

দুর্যোগে কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হতে দক্ষ লোকদের নিয়ে ফসল রক্ষার ঝুকিপূর্ণ বাঁধ গুলো, ঝুঁকিমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মাঝেমধ্যে নিজের ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের কাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য শুকনো খাবার বিতরণ করছেন। ফসল রক্ষা বাঁধের সমস্যাজনিত কোন তথ্য পেলেই তিনি কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেই দ্রুত ছুটে যান সেই সমস্যা জনিত বাঁধে। সমস্যা সমাধানের জন্য সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি । উপজেলার ছোটকাটো দু’একটা হাওরের ফসল ডুবির ঘটনা ঘটলেও, তার কর্ম চেষ্টায় উপজেলার সর্ববৃহৎ সবকটি হাওর এখনো রয়েছে শঙ্কা মুক্ত। তার এ চেষ্টা তিনি এখনো চলমান রেখেছেন। তাই জনগণের কাছে তিনি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ও জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচিত। তাঁর কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সৎ জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনতাসির হাসান পলাশ বলেন, প্রজাতন্ত্রের জন্যই জনপ্রশাসন আর জনগণের সেবা করাই জনপ্রশাসনের প্রধান কাজ। এটাও আমার কাজেরই একটা অংশ। হাওরের ফসল রক্ষায় আমরা গত ১৫ দিন ধরে সব ক’টি বাঁধে দিন- রাত কাজ করে যাচ্ছি। হাওরের সোনার ফসল কৃষকের ঘরে না উঠা পর্যন্ত আমাদের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এবং স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা ও আল্লাহর রহমতে এলাকার জনগণের ফসল রক্ষা পায় তবেই আমার এই কষ্টের স্বার্থকতা।