• ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সিলেটে চরম অক্সিজেন সংকট:অসহায় বেসরকারি হাসপাতাল

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২১
সিলেটে চরম অক্সিজেন সংকট:অসহায় বেসরকারি হাসপাতাল

 

বিবিএন ডেস্ক: সিলেটে সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের তেমন সংকট না হলেও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রীতিমতো অসহায়। চাহিদার অর্ধেক অক্সিজেনও তারা পাচ্ছেন না। এজন্য গত দু’দিন ধরে নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছেন না। এ কারণে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার বেড়েছে সিলেটে।

মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর জীবন বাঁচাতে তারা ছুটছেন অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে। করছেন অক্সিজেনের সিলিন্ডার বহনকারীর জন্য অপেক্ষা। একটি গাড়ি এলে সিলিন্ডার নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি। হুমড়ি খেয়ে পড়েন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ থাকায় সব হাসপাতালকে সময়মতো অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তরল অক্সিজেনের চেয়ে সিলিন্ডার অক্সিজেন কম আসছে সিলেটে। জুলাই মাসজুড়ে সিলেটে করোনার তাণ্ডব চলছে। রোগী বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। করোনায় মৃত্যুর মিছিলও চলছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে উপচে পড়ছে করোনা রোগীরা। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করেও হাসপাতাল- ক্লিনিকে জায়গা হচ্ছে না।

এতে করে রাস্তায় গাড়িতে, এম্বুলেন্সে মারা যাচ্ছেন রোগীরা। এই অবস্থায় গত দু’দিন ধরে সিলেটে নতুন করে অক্সিজেন সংকট তীব্র হয়েছে। অক্সিজেন সরবরার স্বাভাবিক থাকায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাহিদার অর্ধেক অক্সিজেন পাওয়ায় ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

সিলেটে জুলাই মাসে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৮ গুণ। দু’মাস আগেও যেখানে ৪-৫ হাজার কিউবিট মিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হতো এখন সেখানে লাগছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার কিউবিক মিটার। কিন্তু চাহিদার অর্ধেকের একটু বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে সিলেটে। ফলে ১২-১৩ হাজার কিউবিক মিটার অক্সিজেনের ঘাটতি থাকছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা গোটা বাংলাদেশেই সমানভাবে বেড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সিলেটে সেভাবে অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে- কম হলেও নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।

সিলেটের আম্বরখানা ফ্রিডম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন- গত শুক্রবার থেকে তারা অক্সিজেন পাচ্ছেন না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডের কাছে খালি সিলিন্ডার পাঠানো হলেও গতকাল বিকাল পর্যন্ত তারা অক্সিজেন ভর্তি করা সিলিন্ডার পাননি। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য লিন্ডার কার্যালয়ে বসে আছেন।

তারা জানিয়েছেন- মানুষের জীবন বাঁচাতে তারা অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দিয়ে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডার রোগীদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে- আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লোকজন অক্সিজেন গাড়ির জন্য লিন্ডার কার্যালয়ে অপেক্ষায় থাকছেন। গাড়ি এলে তারা অক্সিজেন নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেন।