• ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

জেরুজালেম তুমি কার ???

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুন ১, ২০২১
জেরুজালেম তুমি কার ???

জেরুজালেম শহরটি তিনটি ধর্মের পবিত্র স্হান। দন্ধ, বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা জেরুজালেমের। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করে জেরুজালেম তুমি কার?  জেরুজালেম  প্যালেষ্টাইনের একটি শহর। এই শহরের নাম জানেন না এমন লোক এই পৃথিবীতে খোজে পাওয়া দুস্কর। ইতিহাস থেকে জানা যায় এটি পৃথিবীর সবচাইতে প্রাচীনতম শহর। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই শহরের মালিকানা নিয়ে চলছে দন্ধ, চলছে যুদ্ধ, হামলা /পাল্টা হামলা। চলবেই না কেন? এই জেরুজালেম শহরেই অসংখ্য নবী/রাসুলের জন্ম ছিলো, ছিলো তাদের বসবাস। বংশ পরস্পরায় সেই নবী /রাসুলদের আওলাদরা এই জমিনে বসবাস করেন আসছেন। কালের বিবর্তনে তারা কেউ হয়েছেন পথহারা, পথভ্রষ্ট। আর কেউ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন নবী/ রাসুলদে সেই আদর্শ।

আজকের মুসলমানরা  হলেন সেই নবী/রাসুলদের আদর্শ ধরে রাখার পক্ষে আর ইয়াহুদী / খ্রিষ্টানরা হয়েছেন পথহারা, পথভ্রষ্ট।
আসমানী কিতাব তাওরাত, যাবুর, এবং ইনজিল এই শহরেই  এবং তার আশেপাশেই সরাসরি ওহী মারফতে নাযিল হয়েছে। নবুওত প্রাপ্ত হয়ে হযরত দাউদ, এবং সর্বশেষ মুসা এবং ইসা আঃ আল্লাহর দ্বীন ও তার একত্ববাদ এই ভুখন্ডে প্রচার করেছেন। অবশ্য এর হাজার হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম আঃ ও তার ছোট পুত্র ইসহাক এবং তার নাতি ইয়াকুব আঃ এই জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রচার করেন।

ইয়াকুব আঃ আরেক নাম ছিলো ইসরাইল যেটি বাইবেলে পাওয়া যায়।  আমরা মুসলমানরা যাকে ইয়াকুব নামে ডাকি, ইয়াহুদিরা সেই নবী কে ইসরাইল নামে ডাকে। তাইতো পবিত্র কোরআনে বনি ইসরাইল নামে আল্লাহ পাক ইয়াকুব আঃ এর বংশধরদের সম্বোধন করেছেন। তার বারো পুত্র ছিলো।  এই বারো পুত্রের বংশধরেরা আজ ইসরায়েল নামে পরিচিত। তাদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া/বিবাদের কারনে বারো পুত্র থেকে বারোটি গোত্র তৈরী হয়। এরা দম্ব করে জমিনে ফাসাদ তৈরী করতো। তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহপাক অসংখ্য নবী/ রাসুল তাদের মাঝে প্রেরণ করেন। তাদের মনমতো হলে নবীদের আনুগত্য করতো, অন্যথায় আল্লাহর নবীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়তো। এই দন্ধ আজকের নয় অনেক পুরাতন। যখনই কোন নবী পৃথিবীতে আসতেন  তখনই তারা তার পিছু লেগে যেতো। তারা হযরত জাকারিয়া আঃ কে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং ইসা আঃ কে হত্যার জন্য শুলে চড়ায়। এরা হযরত মারিয়াম আঃ বিরুদ্ধে জিনার অপবাদ দিয়ে হযরত ইসা আঃ কে জারজ সন্তান বলে আখ্যা দেয় (নাউজুবিল্লাহ)।

তাদের এই বাড়াবাড়ির কারনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের প্রতি অসুন্তষ্ট হন। এই ইসরায়েলদের সাথে কেন আজ ইসলামের  দন্ধ?  কেনই বা ইসরায়েল জেরুজালেমের একক দাবীদার? আল্লাহ পাক কেনই বা বনী ইসরায়েল জাতিকে অভিশপ্ত, পথভ্রষ্ট বলেছেন? ইত্যাদি প্রশ্ন হর হামেশা ঘুরপাক খায়।
যে শহরে আল্লাহর কিতাব নাযিল হয় সেই শহর বিখ্যাত না হয়ে পারে না। জেরুজালেম একটি পবিত্র শহর। এখানে  ঘুমিয়ে আছেন অসংখ্য নবী ও রাসুল। তাদের মান মর্যাদা আর শান – শওকতের কারনে জেরুজালেমের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই শহর কে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতি ঘুরপাক খায়। কখন হয় শান্ত কখন ও অশান্ত।

জেরুজালেম শহরেই রয়েছে আমাদের পবিত্রতম মাসজিদ, মাসজিদুল আকসা। হযরত ইব্রাহিম আঃ ও তার ছেলে ইসমাইল আঃ মক্কায় পবিত্র  কাবাঘর নির্মানের চল্লিশ বছর পর হযরত ইব্রাহিম আঃ জেরুজালেম শহরে মাসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন।  অবশ্য পরবর্তিতে দাউদ আঃ ও তার পুত্র সুলাইমান আঃ এটি পুণনির্মান করেন।

হযরত ইব্রাহিম আঃ তিনি ইরাকে জন্ম গ্রহন করলে ও ফিলিস্তিন তথা জেরুজালেম শহরে হিজরত করেন এবং সেখানেই বসতি গড়ে তুলেন। হযরত ইব্রাহিম আঃ থেকেই জেরুজালেম শহরে মানব সভ্যতার ইতিহাস শুরু হয়। জেরুজালেম তথা এর আশেপাশের ভুখন্ডে হযরত ইব্রাহিম আঃ মানুষের মাঝে আল্লাহর দ্বীনের প্রচার করতেন। এই ভুখন্ডেই তিনি নমরুদের মোকাবেলা করেছেন। যুগেযুগে নমরুদরা ভিবিন্ন কায়দায় ইব্রাহিমদের পথ রুখবার চেষ্টা করেছে,করবে! তাই বলে কি ইব্রাহিমরা থেমে যাবে? চলবে….

আলী মুহাম্মদ সমুজ, মানচেষ্টার ইউ,কে।