• ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

আকবর প্রাসাদের’ প্রতিটি ইট-বালুকণায় মিশে আছে নির্যাতিত মানুষের রক্ত আর্তচিৎকার

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২০
আকবর প্রাসাদের’ প্রতিটি ইট-বালুকণায় মিশে আছে নির্যাতিত মানুষের রক্ত আর্তচিৎকার

 

তাইসির মাহমুদ:এসআই আকবর ভুঁইয়া। বয়স আর কতইবা হবে? চেহারা দেখে ত্রিশের বেশি মনে হয়না। চাকরিতে ঢুকেছেন ২০১৪ সালে। মাত্র ৭ বছর আগে। পদবী সাব-ইন্সপেক্টর। এই পদে বেতন কত? সর্বসাকুল্যে১৬ হাজার ৫৪০টাকা । তাহলে ৭ বছর অর্থাৎ ৮৪ মাসে তাঁর উপার্জন হওয়ার কথা ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬০ টাকা। খানাপিনা, চা, পান-সিগারেটের খরচ বাদই দিলাম। কিন্তু এই উপার্জন দিয়ে তিনি তার গ্রামের বাড়িতে কীভাবে প্রাসাদসম বাড়ি তৈরি করতে পারলেন? কিনতে পারলেন কাড়ি কাড়ি ভুমি? কোনো পীরের ছোঁয়ায় কি অলৌকিভাবে বেতনের টাকাগুলো শতগণ বেড়ে গেছে?

আশুগঞ্জের তার প্রাসাদসম বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য কত? নিশ্চয় কয়েক কোটি টাকা তো হবেই? তাহলে এই কোটি কোটি টাকা তিনি পেলেন কোথায়? জবাব আমাদের সকলেরই জানা। প্রবাসীবহুল সিলেটের শান্তিপ্রিয় মানুষের রক্ত চুষে উপার্জন করেছেন তিনি । আখালিয়ার নিরপরাধ রায়হান আহমদের মতো যুবকদের ছিনতাইকারি সাজিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে মিথ্যা অস্ত্র আর ইয়াবা মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। যে টাকা দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে তুলেছেন প্রাসাদসম দালান । তার ওই দালানের প্রতিটি ইট-পাথর ও বালুকণায় মিশে আছে রায়হানের মতো নিষ্পাপ নিরপরাধ শতশত যুবক, তরুণ ও বৃদ্ধের রক্ত আর আর্তচিৎকার । কাল কেয়ামতের দিন এই সুরম্য দালানের প্রতিটি ইট-পাথর বালুকণা নির্যাতিত মানুষগুলোর পক্ষে আকবরের বিরুদ্ধে মহান পরাক্রমশালী প্রতিপালকের আদালতে সাক্ষ্য দেবে।

তবে এসআই আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে টর্চার সেল বানিয়ে নিরপরাধ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যে টাকা আদায় করেছেন তার পরিমাণ কয়েকশ কোটি হবেই। কারণ তাকে সেখানে চাঁদা আদায়ের মাসিক একটি টার্গেট দেয়া হয়েছিলো। টার্গেটমতো উত্তোলিত টাকার ক্ষুদ্র একটি ভাগ পেতেন তিনি । আর বাকিটুকু তাকে দিয়ে দিতে হতো উপর মহলের রক্ষক নামক ভক্ষকদের । সুতরাং এসআই আকবরের উত্তোলিত অর্থে উপরমহলের ভক্ষকরা আরো কত প্রাসাদ তৈরি করছেন তার হিসাব কে জানে?

তবে প্রবাদের কথা সত্য- পাপে বাপকেও ছাড়েনা। বাড়তে থাকেন, বাড়তেই থাকেন। আল্লাহ তায়ালাও রশিটা লোজ করে দেন । তিনি দেখতে চান তার বান্দা এসআই আকবররা বাড়তে বাড়তে কতদূর যেতে পারে। সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি হঠাৎ লাগাম ধরে টান দেন। সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে তিনি টান দিয়েছেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেক কিংবা রিজেন্ট শাহেদকে।
“ইন্না বাতশা রাবিবকা লাশাদীদ । নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের ধরাটা খুবই কঠোর” । যারা বাড়তে আছেন, বাড়তেই আছেন- তারা যেনো ওসি প্রদীপ কিংবা এসআই আকবরদের দিকে খানিকটা ফিরে তাকান। তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য মঙ্গল হবে।

লেখকঃ তাইসির মাহমুদ,

সম্পাদকঃসাপ্তাহিক দেশ।
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
১৫ অক্টোবর ২০