• ১৬ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১লা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

পল্লী রাজাকারদের আস্ফালনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ:মোঃআসক আলী

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
পল্লী রাজাকারদের আস্ফালনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ:মোঃআসক আলী

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শব্দটি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মানুষের মনে ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়েছে এবং এখনও ছড়াচ্ছে,সেটি হলো রাজাকার। “রাজাকার” শব্দটির সাথে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় ঘঠে ১৯৭১সালে।”রাজাকারদের” গোলামী ভাতা ছিল ১৫০ রুপি।স্বাধীনতার পরেও ৯০ রুপি ছিল সোনার ভরি।
অবশ্যই বুঝতে পারছেন, এর সাথে সাথে তারা কত কত লুট পাট করেছিল যে, তা আপনারা সবাই অবগত। তাই তো তারা আজ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছ।

আমরা প্রায় বলি “রাজাকারদের” বিচার হয়েছে কিন্তু আমি বলব সেটা শুধু সূচকে। নেতৃস্থানীয় “রাজাকারদের” বিচারের মাধ্যমেই কি বিচার শেষ? মহান স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার জন্ম হয় নি।তবে আমার সুভাগ্য আমার নিজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সেই সূর্য সন্তানদের মাঝে দুই চারজন ছিলেন। বিধায়,তাদের কাছ থেকে সরাসরি জানার সৌভাগ্য হয়েছে বটে।পাশাপাশি এলাকার মুরব্বিদের থেকে এবং ইতিহাস তো আর আছে-ই। আমরা শুনেছি প্রতি ইউনিয়নে এলাকায় “রাজাকার আলবদররা” ছিল যাদের দ্বারা লুটপাট চুরি -চামারী নারী নির্যাতন  ধর্ষণ, ঘর জ্বালানো থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত দুশমনি সহ এমন অনৈতিক অসংগতি কাজ নেই যে, এই কুলাঙ্গার কাপুরুষেরা করে নাই।ওদের আমি নাম দিয়েছি “পল্লী রাজাকার”। ওরা তাদের পাকি(পাকিস্তানি) প্রভুদের মন যোগাতে তাদের মা-বোনদেরকে বিছানায় দিতেও দ্বিধাবোধ করেনি। এই পাকি প্রেতাত্মা নরপশুদের দ্বারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

কিন্তু দুঃখের বিষয় যে,এই পল্লী রাজাকারদের বিচার আজও সম্পুর্ণ ভাবে হয়নি। শুধু কাগজে কলমে ইউনিয়ন পর্যায়ে লিষ্ট হয়েছে বটে কিন্তু কার্যকরের বেলা নিরবে নিভৃতে সেই রাজাকার লিষ্ট আজও কোন এক গুদামে পড়ে কাঁদছে। আজ নব্য “রাজাকার” চারিদিকে বাড়ছে।কালো মুখোশ পরে আছে আমাদেরই প্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগে। আর এই নব্য “রাজাকার” হচ্ছে সেই খুলনার খান জাহান আলী বাহাদুর রোডে একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৫ পাক বাহিনী নিয়ে গঠিত “রাজাকার” দলের উত্তরসূরীরা। আজ যদি নেতৃস্থানীয় “রাজাকার” দের মতো পল্লী রাজাকারদেরও বিচার হতো, তাহলে নব্য রাজাকার সৃষ্টি হতো না।কারণ এরাই পাকিদের রেখে যাওয়া বীজ।এসব রাজাকারদের উত্তর সুরীরা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,ও ছাত্রলীগে মিশে ফাঁদ পেতে আছে। সুযোগ পাওয়া মাত্র ছুবল মারবে বা মারতে দ্বিধাবোধ করবে না।এই উত্তরসূরী তাদের পূর্ব পুরুষের ন্যায়, বাংলাদেশকে ভালোবাসে না।তাইতো তারা বিভিন্ন ভাবে সমাজে অনৈতিক, অসামাজিক, বিশৃংখলা সৃষ্টি করেই যাচ্ছে।

আজ নব্য রাজাকার প্লাকার্ড হাতে গর্জে উঠে গ্রামের আনাছে কানাছে।তাই আমাদেরকে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করার দায়িত্বটা আমাদেরকেই নিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যায়ে।শুধু নির্দিষ্ট দিবসে বাতি জ্বেলে আর ফেসবুকে স্টাটাস কিংবা ছবির মধ্যে সীমাবদ্ব থাকলে চলবে না। আমাদের আলোকিত পূর্ব প্রজন্মের মর্যাদা বা পূর্বের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে। বুঝাতে হবে দাম দিয়ে কিনা এই বাংলার মাটি,কারো করুণা বা দয়ায় নয়। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লক্ষাধিক  মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই সোনার বাংলা।
কোনো পূর্ব এবং উত্তরসূরী রাজাকারের আস্ফালনে সেটি যেন শশ্বান না হয়।সেদিকে আমাদের সকলের সতর্ক থাকতে হবে।।

লেখক:মোঃ আসক আলী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ, সাধারণ সম্পাদক”যুক্তরাজ্য কিথলী শাখা আওয়ামীলীগ।