গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান আপনার প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র লেখা। আপনার ত্যাগ ধৈর্য সাহস বিনয়ের প্রশংসা করতেই হয়, অনেক নির্মমতা সমালোচনা সয়ে আপনি এগিয়ে চলেছেন। নির্বাচনী লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না, বিরোধী শিবিরে তো রীতিমতো তারা তাদের মন্ত্রীদের নাম আগাম ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু আপনার কৌশল বিচক্ষণতায় ভূমিধ্বস বিজয় এসেছে। নিশ্চয়ই আরো ভালো কিছু হতে পারতো। বাতাসে ভাসছে আপনার উদারতার কারণে বিরোধী মতের পরাজিত অনেকেই বেলা শেষে রাত্রি দ্বিপ্রহরে বিজয়ী হয়েছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসতে এটা আপনার বিচক্ষণতাও বটে।
আপনার পর্যবেক্ষণ শক্তি যথেষ্ট তীক্ষ্ণ যে কারণে দলের বিতর্কিত অনেক নেতাকে মন্ত্রী পরিষদে যুক্ত করেননি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে অনেক প্রভাবশালী নেতা ত্যাগী নির্যাতিত এটা যেমন সত্য, তাদের গোপন আমল আপনি নিশ্চয়ই ভালো জানেন। অনেক শ্রদ্ধেয় নেতা সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, অনেক এমপি হয়েও আপনার মন্ত্রী পরিষদে স্থান না পেয়ে মান অভিমান মনোকষ্টে আপনার বা দলের যাতে ক্ষতি না করেন সে দিকে সর্বোচ্ছ নজর রাখার দাবী রাখছি। পৃথিবীতে বা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যত আলোচিত নির্মম ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনার সাথে অতি ঘনিষ্ঠ জনের ক্ষোভ জেদ অভিমান হিংসা ক্রোধ খোঁজে পাওয়া যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পুরো সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা আপনার উপর নির্ভর করছে, পুরো দেশবাসী তাকিয়ে আছে আপনার দিকে। আপনার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রথম কার্য দিবসে তার বক্তব্যের মাধ্যমে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছেন, তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি মন্ত্রী অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা না বললেও পারতেন।
আপনাকে ব্যর্থ করার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র অনেক শক্তি কাজ করছে, এটা মাথায় রেখেই প্রতিদিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথাবার্তা গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখুন। মন্ত্রী পরিষদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জুনায়েদ সাকী, ভিপি নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজ, রাজিব আহসান, আমিনুল হকের মতো নেতাদের অন্তর্ভুক্তি প্রশংসিত।
মন্ত্রী মহোদয়দের মিডিয়ার মুখোমুখি যত কম করা যায় ততই আপনার জন্য হবে স্বস্তির। স্পর্শকাতর বা অপ্রাসঙ্গিক শব্দগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। তোষামোদকারীদের থেকে সতর্ক থাকুন, যারা সাহসীকতার সাথে গঠনমুলক সমালোচনা করবে তারা যেন কোন ভাবে দমন-পীড়নের শিকার হতে না হয়। সরকার এবং দলীয় ফোরামে নিজেদের অভৈন্তরীন আলোচনায় ভুলগুলো খোঁজে নিয়ে সংশোধনের পন্থা বের করলে, পথ কখনো কঠিন হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এমন বাবা মায়ের সন্তান আপনি যাদের ব্যক্তিত্ব নীতি আদর্শ বিশ্ব পরিমন্ডলে বরৈণ্য সমাদৃত, তাদের উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে সমুন্নত রাখুন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম নীতি আদর্শ সম্মান, আপনার প্রতি দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা অকুণ্ঠ সমর্থন এই শক্তিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগতে পারলে, সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, আপনি তা পারবেন ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সাফল্য কুঁড়ানোর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা, পরিমার্জিত আচরণ আপনার বুদ্ধিদৃপ্ত চিন্তাশীল সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়াটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তোষামোদকারী দূর্নীতিবাজদের কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, এই কঠিন চ্যালেঞ্জে অবশ্যই আপনাকে জিততে হবে।
আমাদের জানতে বুঝতে একটু দেরি হলেও আপনার সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত সঠিক, ডক্টর অলি আহমদ, আক্তারুজ্জামানের মতো কয়েকজন নিমকহারাম কুলাঙ্গারকে জাতি চিন্তে পেরেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য একদিনে আসেনি। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে বিএনপির অযুত-নিযুত নেতাকর্মী এবং দেশের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বেদনার বহিঃপ্রকাশই গণবিস্ফোরণের সাফল্য। এতে হতাহত অগণিত নেতাকর্মী সাধারণ জনতার ত্যাগকে মর্যাদা না দিলে আপনার সরকারের অনেক সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে, বা হারিয়ে যাবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দলেরও প্রধান, আপনার আশেপাশে আপনার বিশ্বাসের উপর ভর করে যারা বসে আছে সবাই যে খুব ভালো কাজ করছে বা খাঁটি ঈমানদার তা নয়! সময়ের স্রোতে ধানের শীষের গণজোয়ারে অনেকেই এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। সবাই যে খুব যোগ্য গ্রহণযোগ্য সাধারনের কাছে জনপ্রিয় তা ভাববার কোন কারণ নেই, অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিও সেই তালিকায় আছেন। সিলেট সুনামগঞ্জ ছাড়াও অনেক জেলায় এমন কিছু নেতারা প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন, চুড়ান্ত মনোনয়নে কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন। কেউ কেউ অবিশ্বাস্য উন্নতি পেয়েছে, আবার বাতাসে ভাসছে অনেকের নিরব কষ্ট হতাশা, কোটি কোটি টাকা তারা হারিয়েছেন। বিভিন্ন ভাবে আলোচনায় আসছে আপনার বিশ্বাসে ছুরি মেরে কোটি কোটি টাকার মনোনয়ন বানিজ্য কিছু নেতারা করেছে। এই বিষয়টি যদি সঠিক ভাবে আপনি উদ্ধঘাটন করতে না পারেন, এক সময় বিএনপি থেকে ত্যাগীরা মান অভিমানে হারিয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জ ১ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া আনিসুল হক চুড়ান্ত মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন, সেখানে অত্যন্ত সাহসী জনপ্রিয় নেতা কামরুজ্জামান কামরুলকে চুড়ান্ত তালিকায় মূল্যায়ন করা আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত। আনিসুল হক থেকে কামরুল শুধু এই প্রক্রিয়াটা যদি ভালো করে খোঁজে দেখেন সেখানে অনেক বিশ্বাসঘাতককে আপনি খোঁজে পাবেন। বিশ্বাসঘাতকদের কাছ থেকে আপনার মাঠের ত্যাগী কর্মীদের বাঁচিয়ে রাখুন।
শুধু একজন ব্যক্তি দলের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে থাকবে এমপি মন্ত্রী মেয়র হতে চাইবে, এটা কেমন কথা? এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে দলে ত্যাগী নেতা সৃষ্টি হবে না, যে কোন সময় ঘুর্ণীঝড়ের কবলে পড়বে বিএনপি। একজন ব্যক্তিকে দলের এবং সরকারের মর্যাদাপূর্ণ আসনে একাধিক পদে সুযোগ সুবিধা দিয়ে অতি মূল্যায়ন করলে, দলের জন্য জীবনবাজী রাখা ত্যাগীরা নিশ্চুপ হয়ে যাবে। হতাশা অপমান অভিমানে তৃনমুলের বিস্তৃতি সংকোচিত হবে। পরবর্তী যে কোন চ্যালেঞ্জ হবে অনেক কঠিন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের বয়স মাত্র দশদিন, এই অল্পদিনেই আপনি বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন, অনেক সমালোচনা জবাব আপনার কাজের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের অনেক দেশের সরকার প্রধান আন্তরিক ভাবে আপনাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন, এটা আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ রাজনৈতিক অর্জন।
দলের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে আপনার কাজ আচরণ দেখে প্রতিদিন মুগ্ধ প্রীত অভিবুত হচ্ছি। আপনার চলন বলন পরিমার্জিত আচরণে নিন্দুকেরা পরাজিত হচ্ছে, মানুষের প্রত্যাশার চাইতেও অনেক ভালো বিষয় উপস্থাপন করে চলেছেন। সত্যি অসাধারণের চাইতেও অনেক ভালো চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনার কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে, দেশবাসীর আস্থা বিশ্বাসকে ধরে রাখতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে যাই বলুক আপনার নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরো অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষক একজন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে একটা গুটা জাতি রাষ্ট্রের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, হাজার বছর পরেও এই কষ্ট মানুষকে ভোগাবে। প্রান্তিক মানুষের সাথে আপনার অতি সাধারণের বেশে চলাফেরা আমাদের ভয় হয়, ষড়যন্ত্র চক্রান্তকারীরা প্রতিমুহুর্ত সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, তারা কিন্তু থেমে নেই। আপনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন, নতুন করে কোন ক্ষতচিহ্ন এই জাতির বহন করার সাধ্য যে আর নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেশি কথা বললে বা লিখলে ভুল হওয়ার সংকা থাকে তাই এখানেই ইতি টানছি। আপনার নেক হায়াত সর্বানিক সাফল্য অগ্রগতি কামনা করছি, মহান আল্লাহ যেন আপনার সহায় হউন।
বিনীত,
বিএনপির একজন নগণ্য কর্মী,
লেখক:মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।