• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ফুলতলীর আল ইসলাহ থেকে জামায়াতে যোগদান কারি সালাম মাদানির খায়েশ পূরণ হবে কি? 

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
ফুলতলীর আল ইসলাহ থেকে জামায়াতে যোগদান কারি সালাম মাদানির খায়েশ পূরণ হবে কি? 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শামসুল উলামা,আল্লামা ছাহেব কিবলা ফুলতলীর আল ইসলাহ থেকে জামায়াতে যোগদান কারি আব্দুস সালাম আল মাদানির এমপি হওয়ার খায়েশ এবার পূরণ হবে কি? ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী(রাহ) এর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক মাঠে নামেন মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী। তখন তিনি ছিলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সৎপুর কামিল এম এ মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক ছিলেন ।

এক সময় জামায়াতের আদর্শের ঘোর বিরোধী সালাম মাদানি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাতক-দোয়ারা বাজার নির্বাচনী আসন থেকে ফুলতলীর আল ইসলাহর পক্ষ থেকে ইসলামি ঐক‍্যজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মিনার মার্কা নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

 

সে সময় অভিভক্ত ইসলামি ঐক্যজোট বিপুল শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল। পাশাপাশি মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী উদিয়মান তরুণ আলেম হিসেবে ফুলতলী ছাহেব কিবলার দোয়ার বরকতে আল ইসলাহের দয়ায় ছাতক দোয়ারায় ব‍্যপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেন। এই নির্বাচনে তিনি১২ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে পঞ্চম হন।পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংসদ সদস্য এমপি নির্বাচিত হওয়ার বিপুল আশা আকাঙ্খা জাগে।

আব্দুস সালাম আল মাদানি ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে আল ইসলাহের নীতি ও আদর্শ ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে গোপনে যোগদান করেন।দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও আস্তে আস্তে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে প্রকাশ্যে আসেন।জামায়াত তাঁকে পুরস্কার হিসাবে দলের অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন ত্যাগী প্রার্থী থাকার পরও সুনামগঞ্জ ৫ আসনের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দান করে।১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ২২,২৬৬ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মজিদ মাষ্টার। তখন ২০ হাজার ৫শ ১৮ ভোট পেয়ে সামান্য ব‍্যবধানে দ্বিতীয় হন ব‍্যরিষ্টার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। আজকের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ১৭,৬৯৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। সেই নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সিরাজ উদ্দিন ১৩ হাজার ২২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ইসলামী ঐক‍্যজোটের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী ১২ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে পঞ্চম হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার আব্দুর রহিম ৯ হাজার ৮শ ৬৪ ভোট, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল করিম মিনার ৯ হাজার ৪শ ৬৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আব্দুল হাই ৭হাজার ৫৩০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সাত হাজার ১৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলাম ২হাজার ৩৬৮ ভোট ও জাসদের আবুল লেইস ৪৩৬ ভোট পান।

আব্দুস সালাম আল মাদানির জন্ম ২৬ শে মার্চ ১৯৫৯ সালে ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের চান পুর গ্রামে।তাঁর পিতার নাম মরহুম মাওলানা আনজব আলী।মাতার নাম রহিমা বেগম। তিনি ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে হাদিস বিভাগে টাইটেল এম এ পাস করে সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে লিসান্স উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। দেশে এসে ১৯৮৯ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সৎপুর কামিল এম এ মাদ্রাসায় কর্মজীবন শুরু করেন।১৯৯৫ সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২০২৩ সালে অবসরে যান।২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর অনেক ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদেরকে পিছনে ফেলে তিনি জামায়াতের মনোনয়ন পেতে সক্ষম হন।দলীয় ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদেরকে মনোনয়ন না দিয়ে আল ইসলাহ থেকে আগত একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় ছাতক দোয়ারা জামায়াতের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ক্ষোভ, হতাশা বিভক্তি দেখা দেয়।এতে এবারের নির্বাচনে জয়লাভের আশা দুরাশায় পরিনত হয়েছে।ছাতক দোয়ারার সাধারণ ভোটারদের প্রশ্ন? এবার কি সালাম মাদানির এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ হবে? নাকি স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে?

দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী আঞ্জুমানে আল ইসলাহের প্রার্থী হিসাবে মিনার মার্কার এমপি প্রার্থী থেকে আজ ৩৫ বছর পর এখন জামায়াতের এমপি প্রার্থী হিসাবে মনোনীত হয়েছেন।আব্দুস সালাম আল মাদানি শতভাগ আশাবাদী এবারের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হবেন।এমন আশা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।