• ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা জমজমাট।

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা জমজমাট।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে হাওর বেষ্টিত ও প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা শেষ মুহুর্তে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠেছে। প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। এমনকি কোন কোন প্রার্থীর স্ত্রী কন্যা সহ স্বজনরা ও ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। পাশাপাশি প্রবাসীদের ও প্রচার কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত শান্তি পূর্ণ ও উৎসব মূখর পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে।কোথাও কোন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

জেলার পাঁচটি আসনেই প্রচারণায়, জমায়েতে মিছিল-সমাবেশে এগিয়ে থাকা বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে তুমুল লড়াই গড়ার চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জাতীয় ইস্যু ছাড়াও স্থানীয় নানা নেতিবাচক ইস্যুকে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় রয়েছেন এসব প্রার্থীরা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটির তৃণমূলের কর্মীদের পক্ষে নেবার চেষ্টা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিরা। তাতে পাঁচটি আসনেই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী লড়াই জমে ওঠেছে।

জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি ২৩ জন প্রার্থী। বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ১৯ এবং স্বতন্ত্র ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে দুইজন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এই দুজনকেই দল থেকে বহিস্কার করেছে বিএনপি।

 

সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-২ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। ৪ জন দলীয়, একজন বিএনপির বিদ্রোহী ও দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এদের মধ্যে ৪ জন দলীয় মনোনীত ও একজন স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৫ দলের ৫ প্রার্থী।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ দাঁড়িপাল্লা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার বই প্রতীক পেয়েছেন।

এই আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক। শেষে আনিসুল হক কে বাদ দিয়ে কামরুল কে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদিকে জামাত জোট থেকে নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী কে জোটের মনোনীত প্রার্থী ঘোষনা করলে জামাত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের চাপে জামায়াতের জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ খান দাড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে আছেন। এখানে ধানের শীষ ও দাড়ি পাল্লার মধ্যেই নির্বাচনী লড়াই হবে এমনটা জানিয়েছেন ঐ আসনের অনেকেই।

 

সুনামগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী নিরঞ্জন দাস কাস্তে, বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপি ও জামাত প্রার্থীর মধ্যেই ভোট যুদ্ধ হবে হাড্ডা হাড্ডি । কারণ দুজনেই খুব জনপ্রিয়।

 

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ধানের শীষ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিক্সা, স্বতন্ত্র (মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপি বিদ্রোহী) মো. আনোয়ার হোসেন তালা, স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) টেবিল ঘড়ি, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ দেওয়াল ঘড়ি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ঈগল ও স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের মধ্যেই তুমুল ভোট যুদ্ধের সম্ভবানা।

 

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম ধানের শীষ, স্বতন্ত্র (মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপি বিদ্রোহী) দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন পেয়েছেন মোটরসাইকেল, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মো. নাজমুল হুদা হিমেল লাঙ্গল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম পলাশী হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এর মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে এমনটাই আশাবাদ ঐ আসনের নির্বাচনী বোদ্ধাদের।

 

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম দাঁড়িপাল্লা, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির দেওয়াল ঘড়ি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম লাঙ্গল এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আজিজুল হক আম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এই আসনে বিএনপি ও জামাতের মধ্যেই ভোট যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা।

 

জেলার ১২ টি উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলা হাওর বেষ্টিত। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ২০ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৪৮ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৬ জন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৫ জন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। জেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭২০টি। ভোটকক্ষ ৪ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে ৩২৩টি ভোটকেন্দ্র দুর্গম। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত থাকবেন ১৪ হাজার ১৪৬ জন কর্মকর্তা। দেশ এবং দেশের বাইরে ১৮ হাজার ৮৭ জন পোস্টাল ভোট প্রদান করবেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৩,৮০৫ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ১,৭১৯ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৩,২১৮, সুনামগঞ্জ-৪ ৩,৭৮৬ জন সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ৫,৫৫৯ জন।

নির্বাচনী আচরণ বিধি দেখভাল করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি, ভিজিলেন্স এবং অবজারভেশন টিম কাজ করছে।

 

সুনামগঞ্জ জেলার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন এবারের নির্বাচন অংশগ্রহন মূলক, উৎসব মূখর ও স্বচ্ছ শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থ গ্রহণ করা হয়েছে।