সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শামছুল হক মেম্বার ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি কামালের সংবাদ সম্মেলনে আনীত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরে সংবাদ সম্মেলন করেন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ মুন্সি।
সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি রাজনৈতিক দল বিএনপির উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন ২০০৯ সালে, দায়িত্ব পালন করেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। পরে তিনি ২০১৭ সালে উপজেলা বিএনপির কার্যকরি কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিথ্যা মামলার আসামী হন। যার এফ আই আর নং- ১/১৫২, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের রাজনৈতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের নির্দেশে উপজেলা বিএনপির উত্তর শ্রীপুরে ইউনিয়নের ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির পাঁচ নম্বর সদস্য হন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুপরিবার আছে, সহোদরেরা ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতি করে। তার ভাইও একজন অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এটা তিনি অস্বীকার করবেন না। তার ভাইয়ের রাজনীতির দায় তার উপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত না।
তিনি জানান, শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজনৈতিক সহকর্মী শামছুল হক (শামছুল হক মেম্বার) ও কামাল হোসেন নামের দু’জন।
তারা বলেছেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি’র সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছি। এমন অভিযোগ শুনে দুঃখিত-স্তম্ভিত হয়েছি। এসব কথায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি জানান, ব্যবসার বাইরে যতটুকু সম্ভব সক্রিয় রাজনীতি করছি। কিন্তু লুটপাটের সাথে সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দলের নেতৃত্ব পাওয়ার প্রতিযোগিতায় শহরের বাড়ী ও সম্পদের কথা যারা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন, তারা রাষ্ট্রের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে কথা বলেছেন। তার কোন সম্পদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরের বাইরে রাখার মত ক্ষমতা তার নেই।
তিনি জানান, শামছুল হক মেম্বার বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে এমন কী আওয়ামী লীগের পালিত অনুষ্ঠান ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিচ্ছেন, এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি যে নির্বাচন বয়কট করেছে, সেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, শামছুল হক মেম্বারের গলায় মালা তুলে দিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, সেই ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। ২০০৮ সালের ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন শামছুল হক।
তিনি জানান, শামছুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধে কয়লার ডিফোতে কয়লা চুরি করার অপরাধীদের আস্কারা দেবার অভিযোগ এলাকাজুড়ে প্রচারিত আছে। পাঁচ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক কারবারীদের সঙ্গেও তার যোগসাজস ছিল। অনুসন্ধান করলে সেটির সত্যতা পাওয়া যাবে। তার আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে চারাগাঁও-কলাগাঁও ছড়া দিয়ে আসা বাংলা কয়লা, সরকারি বালু লুটপাটের অভিযোগ বহু পুরাতন। পাঁচ আগস্টের পর দলের প্রভাব খাটিয়ে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে চাচাতো ভাই আতাউর রহমানকে দিয়ে শ্রীপুর নদীরপাড়ে অবৈধ ক্র্যাসার মেশিন বসিয়েছেন। এসব অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অসংখ্য অভিযোগ এলাকাবাসীর মুখে মুখে আছে।