• ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

রাজনীতিতে ধৈর্য মহত্ত্ব বড়ই প্রয়োজন,যেমনটি দেখিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রিয়াঙ্কা

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২৫
রাজনীতিতে ধৈর্য মহত্ত্ব বড়ই প্রয়োজন,যেমনটি দেখিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রিয়াঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ১৮ই অক্টোবর ২০০৮ সালে নলিনী’র সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কারাগারে। নলিনী হলো রাজীব গান্ধী হত্যা ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একমাত্র ধৃত এবং জীবিত আসামী। নলিনী তখন গর্ভবতী। সোনিয়া গান্ধী লিখিতভাবে নলিনী’র ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আবেদন জানান। যাতে নলিনী’র গর্ভে থাকা সন্তান মায়ের স্নেহ মমতা থেকে যেন বঞ্চিত হয়ে না পড়ে।

নলিনী মনে হয় স্বপ্নেও ভাবেননি তার সঙ্গে রাজীব গান্ধীর পরিবারের কেউ সাক্ষাত করতে পারেন। তার খোঁজ-খবর নিতে পারেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখে নলিনী অবাক বিস্ময়ে ভীষণ লজ্জিত বোধ করলেন, কিছুটা ভয়েও কাঁপলেন। প্রিয়াঙ্কা নলিনীকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন -“আমার পিতা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ভীষণ শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

আমার পিতা তোমার তো কোনো রকম ক্ষতি করেননি। তাহলে তাঁকে কেন হত্যা করতে গেলে? তোমাদের কি এমন সমস্যা ছিলো, যেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত না?প্রিয়াঙ্কার চোখে অশ্রুধারা, নলিনী ও অঝোর নয়নে কেঁদে চলেছে। এই কান্নার দ্বারায় বহু ক্ষোভ, বহু হিংসা স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে গেল।

দুজনের মন হালকা ও কোমল হয়ে উঠলো। আদালতকে গান্ধীজীর পরিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, নলিনীকে মুক্ত করে দিলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টা আদালতে বিচারাধীন। আদালত এবং রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই কার্যকর হবে।

ক্ষমা হলো পৃথিবীর সর্বোত্তম উপহার।

কেবলমাত্র মহান মানুষরাই পারেন – শক্রুকে ক্ষমা করে দিতে। এমন বহু ঘটনা ঘটে গেছে পৃথিবীতে,

যে ঘটনা ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে, কেবলমাত্র ক্ষমাশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে।

বাংলাদেশে বিগত ১৬/১৭বছরে কত হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে, কিংবা তার আগেও। ৫ই আগস্ট ২০২৪ইংরেজীর পরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, আপনাকে দীর্ঘদিন যারা অন্যায় ভাবে জেলে রেখে শারীরিক মানসিক কষ্ট দিয়েছে তাদের প্রতি কি আপনার কোন রাগ ক্ষোভ কষ্ট নেই? জবাবে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন আমি প্রতিহিংসা প্রতিশোধের রাজনীতি পছন্দ করি না। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, কিন্তু প্রকৃতি হয়তো তাদের ক্ষমা করতে পারেনি, ক্ষমা হয়তো করবেও না কোনদিন।

 

ক্ষমার মতো মহৎ আর কিছু হতে পারে না। তবে ক্ষমতার দম্ভে জুলুম নিপিড়ন করে অনেক কিছু আদায় করা গেলেও, একসময় কিন্তু নিজের বলতে আর কিছুই থাকে না। মনে রাখতে হবে প্রকৃতিরও একটা নিজস্ব বিচার আছে। তাই মহান আল্লাহ বলেছেন হে মানুষ দিন পেয়ে দুনিয়া ভুলে যেওনা।

 

লেখক:- মোঃ নিজাম উদ্দি, সাবেক চেয়ারম্যান।